
রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- শনিবার রাতে নারকেলডাঙার বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত এক প্রৌঢ়ের ঘটনায় রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত এলাকা। মেয়র এলাকা ছাড়তেই স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুগামীদের সাথে এলাকাবাসীর হাতাহাতিতে রণক্ষেত্র চেহারা নিল রাজাবাজারের নারকেলডাঙার ওই রেল আবাসন সংলগ্ন বস্তি এলাকা।
শনির রাত ১১টা নাগাদ আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। একের পর এক সিলিন্ডার ফাটার শব্দ শোনা যায়। ঘর হারিয়ে সর্বস্বান্ত একাধিক পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০টিরও বেশি ঝুপড়ি আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ের। তিনি সেইসময় ঘুমিয়ে ছিলেন।
মৃত প্রৌঢ়ের নাম হাবিবুল মোল্লা। তিনি এই এলাকায় কাগজ, পিচবোর্ড কুড়িয়ে বেড়াতেন। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ন্যাজাটে। প্রায় বছর দশ এই নারকেলডাঙা এলাকায় থাকতেন। এদিন মধ্যরাতে প্রথমে একটি ঘরে আগুন নজরে আসে স্থানীয়দের। আতঙ্কে চিৎকার করলে আশপাশের মানুষজন বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা জল দিয়ে আগুন নেঙানোর চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক ঝুপড়ি গ্রাস করে আগুনের লেলিহান শিখা। আগুন বাড়তে থাকে। একের পর এক সিলিন্ডার ফাটার শব্দ শোনা যায়। রাজাবাজারের নারকেলডাঙার ওই রেল আবাসন সংলগ্ন বস্তিতে থাকা মানুষজন এরপর দমকলে খবর দেন। দমকলের একের পর এক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। তবে আগুন ক্রমশ বাড়তে থাকায় এক এক করে প্রায় ১৬টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অনেকটা দেরি হয়ে যায় ততক্ষণে। তখন থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। এইদিকে স্থানীয় পৌরপিতা শচিন সিংয়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ জমতে থাকে। এরপরই এদিন সকালে ঘটনাস্থলে কলকাতার মেয়র ফিরাদ হাকিম পৌঁছাতে ক্ষোভ উগরে দেন গৃহহীন বাসিন্দারা। তাঁর কাছেই স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগও জানান তাঁরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর তোলা তোলেন। টাকার বিনিময়ে বেআইনি ভাবে দোকান, ঝুপড়ি করার অনুমতি দিতেন তিনি। যদিও সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর। এরপরই মেয়র এলাকা ছাড়তেই কাউন্সিলরের অনুগামীদের সঙ্গে গৃহহীন বাসিন্দাদের বচসা শুরু হয়, সেখান থেকে হাতাহাতি পর্যায় চলে যায়। দুই পক্ষকে সরাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও।
অন্যদিকে কাউন্সিলর শচিন সিংয়ের দাবি, তাঁকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার পরই তিনি নারকেলডাঙা থানার সামনে ধর্নায় বসে পড়েন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা না পেলে সরবেন না। বিক্ষোভরত স্থানীয়রাও ঘটনাস্থল উপস্থিত হন।
এদিকে, রবিবার সকালে শচিনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র ফিরহাদ। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। পরে ফিরহাদ বলেন, ‘‘সেচের জমিতে ওঁরা অনেক দিন ধরেই থাকছিলেন। গরিব মানুষদের সঙ্গে আমরা আছি। সরকারি নিয়ম মেনে যা করার করব। সেচ দফতর যদি অনুমতি দেয়, তবে ওখানে বাংলার বাড়ি হতে পারে।’’ তবে কী কারণে আগুন লাগল, তা দমকলই বলতে পারবে বলে জানান মেয়র।
Be the first to comment