পরিবেশ বান্ধব বাজির পক্ষেই রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বুধবার উচ্চ আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে কালীপুজো-সহ সমস্ত উৎসবে বাজি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ৷ কিন্তু সেই রায় খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট ৷ তার পর পালটা মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে ৷ বিশেষ কিছু জায়গায় কোনও রকম বাজি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আর্জি জানানো হয় ৷
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি কেশাং ডুমা ভুটিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানিতে বাজি ব্যাবসায়ীদের তরফে আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী বলেন, এটা মামলাকারীর নিজের প্রচারের জন্য করেছেন। তিনি এই মামলা করার পর ফেসবুক, ইউটিউব-সহ বিভিন্ন জায়গায় নিজের প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তিনি এই মামলা করে যেন সেলেব্রিটি হয়ে গিয়েছেন। এটা কোনও জনস্বার্থ মামলা হতে পারে?
তারপর মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী রাচিত লাখমানি বলেন, কিন্তু রাজ্যের বিশেষ কোনও জায়গা চিহ্নিত করা নেই, যেখানে বাজি বেচা-কেনা এবং ফাটানো যাবে।
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেন, উৎসব ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কোর্ট এখন নির্দেশ দিয়ে কি তার যথাযথ প্রয়োগ করতে বলতে পারে? হাতে ২৪ ঘন্টাও সময় নেই। তাই আদালত জানায় যে পরিবেশ বান্ধব বাজিতেই সম্মতি দেয় ৷ একই সঙ্গে আদালত জানায় যে জীবন ও ব্যাবসার মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাও জরুরি ৷ আর পরিবেশ বান্ধব বাজি ব্যবহারে রাজ্য সরকারের নজরদারির উপরই ভরসা রেখেছে আদালত ৷
এদিন শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সমস্ত ব্যাপারে সচেতন। সেই দিকে তাকিয়েই গাইডলাইন দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই মাত্র ২ ঘন্টার জন্য বাজি ফাটানোয় সম্মতি দিয়েছিল রাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে সব কিছুর ব্যাল্যান্স করা দরকার ৷ জীবন ও ব্যবসার মধ্যে। ব্যবসাকে বাদ দেওয়া যায় না।
Be the first to comment