বড়সড় জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ নাইজেরের একাংশ। একটি মিলিটারি পোস্টে হামলা চালায় একাধিক জঙ্গি। এই হামলার ফলে অন্তত পক্ষে ৭০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাইজের প্রশাসন। গত বুধবার এই হামলার কথা জানিয়েছে সে দেশের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা মন্ত্রক। পশ্চিম আফ্রিকার সন্ত্রাস দীর্ণ এই দেশে এমন ধরনের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি বলেই মনে করছে সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রক।
আগামী শুক্রবার পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরের এবং নাইজেরের প্রেসিডেন্ট মাহামাদৌ ইসোফৌ। ঠিক তার আগেই এই ধরনের জঙ্গি হামলার মধ্য দিয়ে দেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে চাইছে ইসলামিক জঙ্গিরা। এমনটাই মনে করছে সে দেশের কূটনৈতিক মহল।
বুধবার রাতেই এই হামলার কথা জানিয়ে একটি টুইট করেন নাইজেরের প্রেসিডেন্ট মাহামাদৌ। ওই টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন, মিশর সফর থেকে ফিরে তিনি নাইজের এবং মালির সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন তখনই তিনি এই হামলার খবর পান। নাইজের সেনার তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যাপ্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে এই ভয়াবহ আক্রমণে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া গুরুতর আহতের সংখ্যাও প্রচুর ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত জিহাদি জঙ্গিরাই এই বীভৎস হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এর আগে দুই বছর আগে নাইজেরের আউলামে জঙ্গিরা অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় চার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। বুধবারের নাশকতার ঘটনাটি ঘটে আউলাম থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে।
সন্ত্রাসদীর্ণ পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। বিদেশিদের অপহরণ করে মুণ্ডচ্ছেদ কিংবা অস্ত্রের কারবার সবেতেই নাম জড়িয়েছে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর। ওই এলাকায় আইএস দমনে ইতিমধ্যেই সেনা পাঠিয়েছে ফ্রান্স। নিয়মিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও চালিয়েছে ফরাসি সেনা। এই অভিযানের জবাব হিসাবেই এই হামলা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
আগামী দিনে আফ্রিকায় জঙ্গি দমনে ফরাসি বাহিনীর পদক্ষেপ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকর। এই বৈঠকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মাকর। এই আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নাইজেরের প্রেসিডেন্টকেও। কিন্তু বৈঠকের আগের এই ঘটনাই জানান দিল নাইজেরের বুকে সন্ত্রাসের কাঁপন এত সহজে থামবে না।
Be the first to comment