
রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে সব উৎসবকে সম্প্রদায়িকতার রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বামেদের। আর তাই ঈদ-রামনবমীর আগে বামপন্থী-প্রগতিশীলদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।
রবিবার সন্ধ্যায় বিমান বসু এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার সারা দেশের পাশাপাশি এই রাজ্যেও ঈদ উৎসব। নবরাত্রি শুরু হয়েছে এবং আগামী ৬ এপ্রিল রামনবমী পালিত হবে। বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য রক্ষা করে শান্তি ও সম্প্রীতির বাতাবরণে এই উৎসব পালনের জন্য রাজ্যের সকল মানুষের কাছে বামফ্রন্ট্রের তরফে আহ্বান জানানো হচ্ছে।” বিমান বসু আরও বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তি মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির জন্য প্ররোচনা তৈরির চেষ্টা করবে। সমস্ত ধরনের প্ররোচনা উপেক্ষা করে সাম্প্রদায়িক ঐক্য-সংহতি রক্ষার জন্য জনগণের কাছে বামফ্রন্ট আবেদন জানাচ্ছে।” সেই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের কাছে বামফ্রন্টের দাবি, আগাম সতর্কতা নিয়ে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। উস্কানির চেষ্টা হলে কঠোর হাতে তার মোকাবিলা করতে হবে। রাজ্যের সর্বত্র বামফ্রন্ট কর্মীদের সজাগ থেকে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে জোটবদ্ধ হতে হবে।
দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “রামনবমী এবং ঈদকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখতে রাস্তায় থাকবেন সিপিআইএমের কর্মীরা। রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে শান্তি বজায় রাখতেও স্বক্রিয় থাকবেন সিপিএম কর্মীরা। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনাস্থলের সামনে মানববন্ধ করা হবে।”
একযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যে তৃণমূল সরকারের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে সেলিমের অভিযোগ, “রাজ্যে যারা মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করছে, সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনও পদক্ষেপ করছে না। মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাজানো বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেননি। তাঁর সাম্প্রদায়িক ভাষণের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ দায়ের করেছেন।”
Be the first to comment