
রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি দীনেশ কুমার শর্মাকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসাবে বদলির সুপারিশ করার পরই সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের তিনটি সংগঠন। তারা এব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দিয়েছিল। বিচারপতি শর্মার বদলি আটকাতে মরিয়া হাইকোর্টের আইনজীবীদের তিনটি সংগঠন এবার আন্দোলনে নামল। তাদের অনুরোধ, প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসাবে আইনজীবীরা যেন আজ কোনও মামলার শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ না-নেন।
কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শঙ্কর প্রসাদ দলপতি, বার লাইব্রেরি ক্লাবের সম্পাদক সব্যসাচী চৌধুরী ও ইনকরপোরেটেড ল সোসাইটির সম্পাদক পরিতোষ সিনহা এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি দীনেশ কুমার শর্মার বদলির সুপারিশ আর পাঁচজন বিচারপতির বদলির মতো নয়। সাম্প্রতিক কালে বিচারপতি শর্মার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু আপত্তিকর অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। বিচারপতি শর্মা দিল্লি হাইকোর্টে সাম্প্রতিক কালে অন্তত ৪৫টি মামলা পার্ট হার্ড (আংশিক শোনা) করে রেখে দিয়েছিলেন, যাতে পরে তিনি ফের ওই মামলা শুনতে পারেন। সংগঠনগুলির সম্পাদকেরা দাবি করেছেন, “কলকাতা হাইকোর্টকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করা চলবে না। এর আগেও কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক বিচারপতির বদলি করা হয়েছে, যাঁরা দু-এক বছরের জন্য এখানে এসেছেন। সেই তুলনায় কলকাতা হাইকোর্টেরই অনেক বিচারপতিকে দেশের অন্য হাইকোর্টে বদলি করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হোক।”
উল্লেখ্য, এর আগে, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের তিনটি সংগঠন দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নাকে চিঠি লিখে বিচারপতি দীনেশ কুমার শর্মাকে নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। এবং, আজকের আন্দোলনের পরেও বিচারপতি দীনেশ কুমার শর্মাকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসাবে বদলিতে কেন্দ্র সায় দিলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেয় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের তিন সংগঠন।
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টে প্রতিবাদের আবহের মধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি দীনেশ কুমার শর্মাকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসাবে বদলিতে সায় দেয় কেন্দ্র। আজই কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বিচারপতি শর্মার বদলির কথা জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধারের পর ওই বিচারপতিকে তাঁর পুরনো আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টে পুনরায় বদলির সুপারিশ করতেই সেখানেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
Be the first to comment