
রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- দক্ষিণ ২৪ পরগনার, পাথরপ্রতিমার, সুন্দরবন পুলিশ জেলার অন্তর্গত ঢোলাহাট থানার ঘেরি এলাকায় বাজি বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮। মঙ্গলবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় সুতপা বণিকের।
সোমবার ঈদের রাতে আচমকাই পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢোলাহাট থানার ঘেরি এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল বাড়ির ছাদ পর্যন্ত উড়ে যায়। এরপরই ওই বাড়িটিতে নিমেশের মধ্যে আগুন লেগে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়ির মালিকের নাম চন্দ্রকান্ত বণিক। জানা গিয়েছে, বাড়ির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মজুত ছিল বাজি। হঠাৎই সেই মজুদ বাজিতে আগুন লেগে যায়। এরপরই ঘটে বিস্ফোরণ। বাড়িতে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। আগুনের তাপে সেগুলি ফাটতে শুরু করে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা বাড়ি। বাজি তৈরির সময় বাড়ির শিশুরা ঘুমোচ্ছিল। মহিলারাও তাদের সঙ্গেই ছিল। আচমকা বিস্ফোরণ ঘটায় বাড়িতে থেকে কেউ বেরতে পারেননি। জীবন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হন পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই। রাতেই শিশু-সহ ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পুলিশ। একজনকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবারের বাকি ৩ সদস্য ঘটনার পরই এলাকা ছেড়েছেন। তাঁদের এখনও হদিশ মেলেনি বলেই খবর। এদিকে বাজি কারখানার মালিক দুই ভাই চন্দ্রকান্ত বণিক ও তুষার বণিকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে ঢোলাহাট থানায়। তাঁদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরই সোমবার রাতেই এবিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এনআইএ তদন্তের দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এবিষয়ে মুখ খুললেন দিলীপ। তিনি বলেন, “ভোট আসছে। সরকার ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। সেই কারণেই বাজির নামে বোমার কারখানা চালাচ্ছে।” এরপরই এনআইএ তদন্তের দাবি জানান তিনি। এদিকে তৃণমূলের কথায়, সরকার বিভিন্ন এলাকার বাজি কারখানা বন্ধ করেছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে অনেকে কারখানা চালাচ্ছে। বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Be the first to comment