
রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- পূর্ব ভারতের অন্যতম সর্ববৃহৎ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে কলকাতার নিউ টাউনে।
প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেবীপ্রসাদ শেঠি এবার গরীব মানুষদের জন্য খাস কলকাতার বুকে ১১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ‘নারায়ণা হেলথ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। বৃহস্পতিবার সেই বিশাল হাসপাতালেরই শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, এই হাসপাতালটি গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার ডাক্তার দেবী শেঠিকে ৭. ২৬ একর জমি দিয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনকোলজি, কার্ডিয়াক সায়েন্স, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা কেয়ার, নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, কিডনি চিকিৎসা ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার-এর মতো একাধিক বিশেষ চিকিৎসা বিভাগ থাকবে। এছাড়াও রোগীদের সুবিধার্থে দ্রুত ও কার্যকরী বহির্বিভাগ পরিষেবা, অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং সর্বোত্তম স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে, হাসপাতালটিতে আধুনিক প্রযুক্তির সব সুবিধা থাকবে। এই প্রকল্প কলকাতাকে দেশের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বুধবার এই হাসপাতালের শিলান্যাস করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘এই হেলথ সিটি তৈরি করার জন্য দেবী শেঠিকে ধন্যবাদ। এই হাসপাতাল সাধারণ মানুষ, গরীব মানুষের কথা ভেবে কাজ করবে। উনি বলেছেন বাংলা মানেই ব্যবসা। এই কথা শুনে আমার ভাল লাগছে।’ একইসাথে মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বললেন, ‘সারাক্ষণ যারা নেগিটিভিটি পছন্দ করে, তারা সমালোচনা করে। বলে বেঙ্গল বিজনেস গ্লোবাল সামিট করে কোনও লাভ নেই তাঁরা এসে দেখা যান। আমাকে মাত্র দিন ১৫ আগে দেবী শেঠি এই হাসপাতাল করার কথা বলেন। আজকে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে। যারা সমালোচনা করেন এটা তাঁদের জন্য ‘আই ওপেনার।’ এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে বাংলায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন, ‘নারায়ণা হেলথ’-এর কর্ণধার ডাক্তার দেবীপ্রসাদ শেঠি ঘোষণা করেন পিছিয়ে পড়া নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য ১ কোটি টাকার স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। যার বার্ষিক প্রিমিয়াম দিতে হবে মাত্র ১০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে নারায়ণা হেলথ সারা দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করে চলেছে। আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে চলেছি, যাতে কলকাতার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে বাধ্য না হন। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সময় দিয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে তাঁর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
‘নারায়ণা হেলথ’-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং গ্রুপ সিইও ডাক্তার ইমানুয়েল রুপার্ট বলেন, “নিউ টাউনে নির্মীয়মাণ নারায়ণা হেলথ সিটি পূর্ব ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি হাসপাতাল হতে চলেছে। এখানে এক ছাদের নিচে থাকবে সব কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ বিভাগ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিশ্রুতি আরও মজবুত করবে, যাতে রোগীরা সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা এবং ক্লিনিক্যাল কেয়ার পান।”
প্রসঙ্গত, ডাক্তার দেবীপ্রসাদ শেঠির উদ্যোগে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বেঙ্গালুরুতে সদর দফতর-সহ, নারায়ণা হৃদয়ালয় লিমিটেড ভারতের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটি মাল্টি-স্পেশালিটি, টারশিয়ারি এবং প্রাইমারি কেয়ার পরিষেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলির একটি চেইন পরিচালনা করে। বর্তমানে ভারতের ১৯টি হাসপাতাল এবং ২টি হার্ট সেন্টার-সহ সংস্থার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি রয়েছে কেম্যান আইল্যান্ডস-এ। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৫,৭৮৯টি কার্যকরী শয্যা রয়েছে, যা ৬,২৫০টিরও বেশি শয্যার সক্ষমতা ধারণ করে।
Be the first to comment