ঈদের অনুষ্ঠানে ফিরহাদের বাড়িতে অভিষেক! ‘নবীন-প্রবীন’ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যের বার্তা তৃণমূলের?

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ঈদের দিন শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির দাওয়াতে হাজির হলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ‘নবীন-প্রবীন’ দ্বন্দ্বের মাঝে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন’ ও ‘প্রবীণ’ নেতৃত্বের টানাপোড়েন নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের একটি বড় অংশ সংগঠন-কেন্দ্রিক সংস্কারের পথে এগোলেও, ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক পুরনো নেতা প্রশাসনিক কাজে বেশি সক্রিয় ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে একাধিকবার অভিষেক অনুগামীদের তরফে পুরসভা ও বিভিন্ন দফতরের কাজ নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। এমনকি অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে মেয়রের একান্ত সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের নিয়েও দলের অন্দরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
তবে সোমবার ঈদের অনুষ্ঠানে রজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির অনুষ্ঠানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির ছবি মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার পর থেকেই এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে কি অভিষেকের উপস্থিতি বার্তা দিচ্ছে যে, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব কমছে? ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সুপ্রিমোর নির্দেশেই কি নবীন ও প্রবীনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে তৃণমূল এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বার্তা দিতে চাইছে?
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত বছরে ফিরহাদ হাকিমের ঈদের দাওয়াতে যাননি। এবছর তাঁর উপস্থিতি নতুন করে দলীয় সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে নেতাজি ইন্ডোরে দলের মেগা সমাবেশে অভিষেক ‘একসঙ্গে কাজ করার’ কথা বলেছিলেন। পরে মার্চ মাসে ভার্চুয়াল বৈঠকে সুব্রত বক্সি তাঁকে ‘সকলের নেতা’ বলে উল্লেখও করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ঈদের এই ছবি দলীয় ঐক্যের একটি প্রতীক বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
সোমবার ঈদের অনুষ্ঠানে ফিরহাদের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, সাংসদ পার্থ ভৌমিক, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। যদিও ফিরহাদ হাকিমের মিডিয়া টিম এই ছবিগুলো প্রকাশ করলেও, এ বিষয়ে তৃণমূলের শীর্ষ কোনও নেতা প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি ৷

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*