
রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- অতীতকে টেনে বিধানসভায় ভাঙচুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিন বিধানসভা ভাঙচুর করেছিলেন, আজ তিনি সেখানে দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখছেন।”
মঙ্গলবার বিধানসভায় নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল রাজ্যের মানুষ। একদিকে যখন বিধানসভার ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের বক্তব্যের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখছিলেন, তখনই বাইরে বিধানসভার সিঁড়িতে পালটা বক্তব্য রাখছিলেন সাসপেন্ড হওয়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি তোলেন তিনি।
পাশাপাশি একাধিক বিষয়ে এদিন রাজ্য সরকার তথা মুখমন্ত্রীকে আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভাকে কলুষিত করছেন। যেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় এখন বক্তব্য রাখছেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে বিধানসভার সদস্য না হয়েও এখানে ঢুকে সব আসবাবপত্র ভেঙে ছিলেন। এছাড়াও তিনি ২০০৫ সালে ৪ অগস্ট লোকসভার ডেপুটি স্পিকারের গায়ে কাগজ এবং চাদর ছুঁড়ে মেরে ছিলেন। আজ সেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তাঁর বক্তব্য লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভাকে নিজের সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করেন।”
অন্যদিকে, বিধানসভা ভাঙচুরের অভিযোগ খারিজ করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার ভেতরে তিনি বলেন, “সেদিন আমি একটা টেবিলেও হাত দিইনি। হাত দিয়েছিল আমার দল। সেদিন বিস্ফোরক হয়েছিল আমার দল। আমায় বিধানসভায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে। আমি নাকি চেয়ার টেবিল ভেঙেছি। আমি এর প্রমাণ দেওয়ার কথা অধ্যক্ষকে বলেছি। আমি সেদিন সিঙ্গুর থেকে এখানে এসেছিলাম। আমাকে সিঙ্গুরে থাকতে দেয়নি। আমি এখানে তখন বিরোধী দলনেতা পার্থদার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “ওরা বলছেন আমিও নাকি কাগজ ছিঁড়েছি। আপনারা তো এখানে এতজন আছেন আর আমি যখন কাগজ ছিঁড়ে ছিলাম আমি তখন একা ছিলাম। বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সবাই মিলে আমাকে একটা কথা পর্যন্ত বলতে দিত না। একটা মোশন আনতে দিত না, একটা প্রস্তাব পর্যন্ত আনতে দিত না। ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ মানে এটা নয় যে কাউকে আঘাত করা, হাউসকে ভাগ করা, ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ মানে হেট স্পিচ নয়।”
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়াতে আবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে কিছুক্ষণ আগে মহাকুম্ভকে ‘মৃতকুম্ভ’ বলেছেন। এই কথা তাঁকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। মহাকুম্ভে চল্লিশ কোটি হিন্দু পুণ্যার্থী স্নান করেছেন। তাই আমি অনুরোধ করব, হিন্দু ও সাধু সমাজ যেন এর কঠোর প্রতিবাদ জানায়।”
Be the first to comment