‘আমাকে রক্তাক্ত করেছে পুলিশ’, হাওড়ার বেলগাছিয়ায় গিয়ে আক্রান্ত হয়ে বললেন শুভেন্দু

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– স্থানীয়দের বিক্ষোভে দফায় দফায় অশান্ত হয়ে উঠছে হাওড়ার বেলগাছিয়া। এবার সেখানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাতে আঁচড়ের দাগ দেখিয়ে তাঁর দাবি, “আমাকে রক্তাক্ত করেছে পুলিশ। রক্ত গুছিয়ে রাখলাম।”
সোমবার সকালে হাওড়ার বেলগাছিয়ার ধস বিপর্যস্ত এলকায় যান পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। আগামী তিনদিনের মধ্যে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে বলেই আশ্বাস দেন ফিরহাদ। এরপরই, এদিন দুপুরের দিকে বেলগাছিয়ায় যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই শুরু হয় শুভেন্দুর সাথে পুলিশের বচসা। এরপরই বিরোধী দলনেতার দাবি, তাঁকে পুলিশ বাধা দেয়। কথা কাটাকাটির মাঝে তাঁকে শারীরিক হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ। হাতে আঁচড়ের দাগ দেখিয়ে তাঁর দাবি, “পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। আমাকে রক্তাক্ত করেছে। এই রক্ত গুছিয়ে রাখলাম।” বেলগাছিয়ার ভাগাড়ের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০০ শতাংশ কাজের নমুনা দেখুন। গরিবের কী অবস্থা। খাবার নেই। মিথেন গ্যাস বেরচ্ছে। আরও বড় ঘটনা ঘটবে যদি রাজ্য সরকার উন্নাসিকতা করে।” শুভেন্দু এদিন আরও বলেন, ‘হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পানীয় জল পাচ্ছেন না। বসতিতে ফাটল। বহু মানুষ নিরাশ্রয়। অথচ বিরোধী দলনেতাকে সেখানে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। এর থেকেই পরিষ্কার বাংলায় কোনও গণতান্ত্রিক সরকার নেই।’ শুভেন্দুর অভিযোগ, ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশেই পুলিশ তাঁকে শারীরিক হেনস্থা করেছে।
এদিন হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বিরোধী দলনেতা। বিজেপির তরফে জল, খাবার, ত্রিপল দেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, “হিন্দু বলে হাওড়ার ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে না সরকার। রোহিঙ্গা থাকে না তাই রিলিফ নেই, হিন্দু থাকে তাই রিলিফ নেই।”
শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, “২ হাজার বেআইনি বাড়ি রয়েছে হাওড়া জুড়ে। গরিবদের লুঠ করছে মমতার সরকার।” এরপরই বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাঝ পথে ব্যারিকেড দিয়ে বিরোধী দলনেতাকে আটকায় পুলিশ। শুভেন্দুর সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি হয় পুলিশের। এরই মাঝে গুলাম মোর্তাজা নামে এক পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দুর হাতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
এরপর হাত তুলে ক্ষতচিহ্ন দেখাতে থাকেন শুভেন্দু। বলেন, “মমতার পুলিশ মারল, দেখুন। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাটুকু দিতে পারে না। আর গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। বুদ্ধদেব মমতাকে প্রোটেকশন দিত। আর মমতা বিরোধী দলনেতাকে মার খাওয়াচ্ছেন। লম্পট মন্ত্রী এসেছিল, পালিয়েছে ওদিকে। সরকার মারা গিয়েছে, এটা প্রমাণ হচ্ছে।” হাওড়া কমিশনারেটের পুলিশ রক্তাক্ত করেছে, বললেন শুভেন্দু। পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতেও জড়ান বিরোধী দলনেতা। মন্ত্রী ঘুরে যেতে পারল, অথচ বিরোধী দলনেতাকে আটকানো হল, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করাতেই আটকানো হল বলে অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষও। সরকারের তরফে কেবল একটা স্কুলেই ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি বলে দাবি শঙ্কর ঘোষের।
সরকার কিছুই করেনি বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। তিনি বলেন, “কাল থেকে লোকগুলিকে খাবার তো দূর, জলও দেওয়া হয়নি। আমি অবিলম্বে তাদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে ২০ হাজার টাকা করে দিন রাজ্য সরকার। হিন্দু বলে করছে না, রোহিঙ্গা হলে করত।” এদিকে বেলগাছিয়ায় ধসকাণ্ডের প্রতিবাদে হাওড়া পুরসভা অভিযান করে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী আহত হতেই বিধানসভায় অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে হাজির হন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*