একদা সরকারকে হুঁশিয়ারি দেওয়া নওশাদের ভাই পরপর মমতার ইফতার মঞ্চে, ছাব্বিশের আগে কিসের বার্তা?

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- সামনেই বিধানসভা নির্বাচন আর তার আগেই কি ফুরফুরার রাজনীতিতে পট পরিবর্তন? মুখ্যমন্ত্রীর পাশে পরপর দুদিন কাসেম সিদ্দিকীকে দেখেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

২০২৩ সালে ‘কলকাতা অচল’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা তথা আব্বাস সিদ্দিকীর তুতোভাই কাসেম সিদ্দিকীকে সোমবারের পর মঙ্গলবারেও দেখা গেল কলকাতা পুরসভার ইফতার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসতে। শুধু বসাই না সারাক্ষণ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলতে দেখা যায়। এরপরই উঠছে তাহলে কি ফুরফুরার রাজনীতিতে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পট পরিবর্তন? নাকি নওশাদের বিরুদ্ধে জোড়াফুলের প্রতীকে দেখা যেতে পারে তাঁরই তুতোভাই কাসেমকে।
উল্লেখ্য, ভাঙড়ে শাসকদলের দাদাগিরির অভিযোগে একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে স্বয়ং রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একাধিকবার নেত্রীর নির্দেশে দলের তরফ থেকে সতর্ক করা হয়েছে শাসক দলের দুই দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম ও শওকত মোল্লাকে। তারপরেও বার বার ভাঙ্গর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল সামনে এসেছে।
একসময় সরকারকে হুঁশিয়ারি দেওয়া কাশেম সিদ্দিকীকে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে একই মঞ্চে পাশাপাশি দেখার পরই অনেকেই মনে করছেন, ভাঙ্গড়ের ভোটব্যাঙ্ক শাসকদলের ঝুলিতে রাখার জন্যই ছাব্বিশে হয়তো নতুন এবং দুর্নীতিমুক্ত মুখ আনতে পারে নওশাদের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, এক সপ্তাহ আগেই রাজ্যের সচিবালয়ে গিয়ে প্রায় ২২ মিনিট ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। তার এক সপ্তাহের মাথায় সোমবার ফুরফুরা শরিফে এবং মঙ্গলবার পার্ক সার্কাসে মমতার পাশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাসেমকে এবং তাঁর আর এক তুতোভাই নাজিমুদ্দিনকে দেখে বিধানসভা নির্বাচনের একবছর আগে থেকেই ফুরফুরার রাজনীতিতে পট পরিবর্তন হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ধর্মতলায় দলীয় কর্মসূচি ছিল আইএসএফের। অভিযোগ, সেই সময় কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায় তৃণমূল। তার প্রতিবাদে ধর্মতলায় অবরোধ শুরু করে আইএসএফ। ব্যস্ততম রাস্তায় অবরোধ হঠাতে এগিয়ে আসে পুলিশ। তারপর আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ কার্যত খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জখম হন বউবাজার থানার ওসি এবং অ্যাডিশনাল ওসি। পুলিশ আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ মোট ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের পুলিশ হেফাজত হয়েছিল। এরপরই কাশেম সিদ্দিকী নওশাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘আমরা কলকাতার রাজপথ অচল করে দেব।’’ এর পর তাঁর সংযুক্তি, ‘‘আগামী দিনে আমরা পিরসাহেবেরা কলকাতা আসব। কত ওঁর পুলিশ আছে আর কত ওঁর লাঠি আছে দেখাবেন।’’ সেই কাশেমকেই এবার দেখা গেলো মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে কথা বলতে, এবং মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর কথার উত্তর দিতেও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*