ইএম বাইপাসে আক্রান্ত তরুণীর মৃত্যু, বাবার সাথে পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতেই মা-ছেলের এই হামলা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- হাসপাতালে ভর্তি করেও শেষরক্ষা হল না মেট্রোপলিটন ইএম বাইপাসে আক্রান্ত তরুণীর। বৃহস্পতিবার রাত ২ টো নাগাদ এনআরএস হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই আক্রান্ত তরুণীর। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মৃতার সঙ্গে ওই নাবালকের বাবার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তার জেরেই এই আক্রমণ। তবে নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ আচমকাই প্রগতি ময়দান থানার অন্তর্গত মেট্রোপলিটন বাইপাসের সামনে একটি ট্যাক্সি থেকে ওই তরুণীকে নামতে দেখেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, ওই ট্যাক্সিতেই অভিযুক্তরা ছিল। ট্যাক্সি থেকে নেমে কোনওরকমে ওই তরুণী পালাতে গেলে তাঁর হাত ধরে টানে এক যুবক। এরপর পকেট থেকে একটি ছুরি বার করে ওই যুবতীর গলায় একাধিকবার চালাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তরুণী। এমন দেখে স্থানীয়রা সেখানে তড়িঘড়ি পৌঁছন। তিন যুবক পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধরে ফেলেন। মারধরও করা হয় তিন যুবককে। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ এসে ওই তিন যুবককে আটক করে। ওই আক্রান্ত তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রাত ২টো নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, মূলত পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা যায়, মহম্মদ ফারুক আনসারির সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ওই তরুণী। তাঁরা দু’জন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বাইপাসের ধারে একটি চায়ের দোকানে যায় তাঁরা। ফারুকের ফোনের জিপিএস লোকেশন দেখে, তাঁর স্ত্রী, পুত্র অন্য একটি গাড়িতে তাঁদেরকে অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপরই আচমকা তাঁদের উপর চড়াও হন তিন জন। ফারুকের স্ত্রী এবং তাঁদের ১৬ বছরের পুত্র ছাড়াও ছিলেন একজন যুবক। যিনি ফারুকের স্ত্রীর আত্মীয়। তাঁদের দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ফারুক। অন্যদিকে, ঘটনার সময়ে সেই গাড়ির চালকও পালিয়ে যান। এরপরই ওই তরুণীকে ছুরি দিয়ে একাধিক বার কোপানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, মূল আক্রমণ করে ফারুকের নাবালক পুত্র। সঙ্গে ছিলেন তার মা-ও। তরুণী সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে ধরে ফেলেন অভিযুক্তেরা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং তিন জনকে আটক করে নিয়ে যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*