রমিত সরকার, নদীয়া :
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় কৃষ্ণনগর শহরেও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচার কার্য শুরু হয়েছে। কর্মীদের হাতে আঁকা স্লোগান, দলীয় প্রতীক এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বার্তায় রঙিন হয়ে উঠছে শহরের একাধিক দেওয়াল। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি, তবু প্রচারে কোনো দেরি করতে চাইছে না দল।

বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তুলতে মাঠে নেমেছে। তারই অংশ হিসেবে সোমবার থেকে কৃষ্ণনগর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা।
শহরের বিভিন্ন পাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারের দেওয়ালে দেখা যাচ্ছে হাতে আঁকা নানা স্লোগান ও দলীয় প্রতীক। কোথাও কবিতার ছন্দে রাজনৈতিক বার্তা, কোথাও আবার সরাসরি স্লোগানের মাধ্যমে ভোটের আহ্বান। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের উল্লেখও উঠে আসছে এই দেওয়াল লিখনে। সব মিলিয়ে কৃষ্ণনগরের একাধিক এলাকা ধীরে ধীরে নির্বাচনী রঙে রঙিন হয়ে উঠছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত এই বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবু সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে এবং ভোটের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আগেভাগেই প্রচার শুরু করে দিয়েছে দল। স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, সরকারের উন্নয়নের বার্তাই দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চান তারা।
এই বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিগত নির্বাচনে এখানে বিজেপির প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন এবং এলাকায় বিজেপির সংগঠনও বেশ শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। সেই পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই আশাবাদী। দলীয় নেতাদের মতে, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং সেই উন্নয়নের কথাই এবার প্রচারের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হবে।
এই দেওয়াল লিখন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সৌমাল্য ঘোষ সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মী। তারা জানান, ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত আকারে প্রচার চালানো হবে এবং কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই নির্বাচনী লড়াইকে শক্তিশালী করা হবে।
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই কৃষ্ণনগরে রাজনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে বাড়তে শুরু করেছে। দেওয়াল লিখনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রচারের সূচনা করলেও আগামী দিনে অন্যান্য দলগুলিও একইভাবে প্রচারে নামবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, মাঠে-ময়দানে যে ভোটের আবহ ইতিমধ্যেই তৈরি হতে শুরু করেছে তা স্পষ্ট।

Be the first to comment