রোজদিন ডেস্ক : ছাব্বিশে ২২৬-এর বেশি আসন নিয়েই ফিরবো। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে কালীঘাটের বাড়ি থেকে এমনই ঘোষণা করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তালিকা ঘোষণার আগেই সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্য ভিকট্রি সাইনও দেখান আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেত্রী। এদিন ২৯১ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল তৃণমূল। পাহাড়ের তিনটি আসন তাঁরা ছেড়ে দিয়েছে অনীত থাপাকে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সি। এদিনের তালিকায় ৫০ জনেরও বেশি মহিলাকে রাখা হয়েছে। রয়েছেন ৭৮ জন এসসি, ১৭ জন এসটি ও ৪৭ জন সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধি। তবে এবারের প্রার্থী তালিকায় তুলনামূলকভাবে চমক অনেক কম। অনেক জেতা প্রার্থীর কেন্দ্র বদল করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বীরবাহা হাঁসদা-সহ কয়েকজন। সংসদ থেকে এবার প্রথমবার বিধানসভায় যেতে পারেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত কেউ কেউ। মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে টিকিট পেলেন পবিত্র কর, শিবশঙ্কর পাল, তনুশ্রী হাঁসদারা।

এদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূলনেত্রী ফের আক্রমণ করেন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে। বলেন, আমি বিজেপিকে বলবো, এত ভয় পাচ্ছেন কেন? ওদের সৌজন্য নেই আমাদের আছে। আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আপনারা এজেন্সি দিয়ে কলকাঠি না করে লক্ষ লক্ষ বাইরের লোক না নিয়ে এসে এখানে গ্যাসের সংকট না করে, পেট্রোলের সংকট তৈরি না করে, স্কুলগুলোর সংকট না বাড়িয়ে আসুন শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করি। বিজেপির কমিশনকে বলবো, ক্ষমা করবেন, আপনারা ব্রিলিয়ান্ট খেলা খেলছেন! নোটিফিকেশন হল না, তার মধ্যে চিফ সেক্রেটারি থেকে শুরু করে হোম সেক্রেটারি থেকে শুরু করে ডিজি থেকে শুরু করে এডিজি আইনশৃঙ্খলা সিপি থেকে শুরু করে সমস্ত কমিশনারেট থেকে শুরু করে এসপি থেকে শুরু করে সব বদল করে দিলেন। খেলাটা বিজেপির কথায় মেঘের আড়াল থেকে কেন খেলছেন, আসুন সরাসরি খেলুন। দরকার হলে প্রচারে নামুন। সব আইন যখন ভাঙছেন, তখন সরাসরি প্রচারে নেমে মঞ্চ করে মিটিং টাও করুন না! আমি হাসিমুখে বলছি, যা ইচ্ছে করতে পারেন। আপনাদের অনেক পরিকল্পনা অনেক চক্রান্ত আছে কিন্তু তাও মনে রাখবেন সব অফিসার আমাদের অফিসার যারা বাংলায় কাজ করে ভোট ঘোষণা হলেও ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট কিন্তু থাকে। আগামী দিনে বিজেপির কোনও সম্ভাবনা নেই। আগে যা আসন পেয়েছে এবার তার থেকে তলানিতে নামবে। মানুষকে ভোটের লাইনে দাঁড় করিয়ে, হেনস্থা করে, এসআইআরের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হল। সার্ভার বন্ধ করে দেওয়া হল, নোটবন্দির নামে লাইনে দাঁড় করানো হল। মনে রাখবেন এবার নিজেরাই কিন্তু বেলাইন হয়ে যাবেন এই নির্বাচনে।
তিনি আরও বলেন, বাংলার অস্মিতা রক্ষার লড়াই এটা। বাংলার অস্তিত্বের লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলা জিতবে। বাংলার মা মাটি মানুষ জিতবে। দিল্লির লাড্ডুরা জিতবে না। আমাদের হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। আমাদের হাত থেকে ম্যান পাওয়ার কাড়তে পারেনি। ভোট মানুষ দেয়। যারা নিজেরা জিততে পারবেন না বা জিততে পারার সম্ভাবনা নেই তারা পার্টি অফিসে বসে নাম চেঞ্জ করছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, অন্য রাজ্যে কি করেছে। এখনও তো নোটিফিকেশন হয়নি। এখন যদি কোনও বিপর্যয় হয় তাহলে কে দেখবে? সব দায়িত্ব কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হলেও নির্বাচন কমিশনকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে কিন্তু বলে দিলাম

Be the first to comment