রোজদিন ডেস্ক :
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা মাস আর্টস। আজ ইডি-র এই দাবিতে বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গতকাল প্রায় দশ ঘন্টাই ডি র ম্যারাথন জেরা চলে ইন্দ্রনীল সেন কে। আজ এক বিবৃতিতে ইডি দাবি করে, মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সংস্থা অক্টেভ রেকর্ডস-এ ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল, এর থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ত্রিশ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়। রয়ালটি বাবদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে ইডি-কে জানিয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন।
ইডি সুত্রের দাবি, মন্ত্রী থাকার সময়ে ৮৫ কোটি টাকার বেশি বেশি দামের একাধিক দরপত্র ধ্রবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থা-কে দেওয় হয়। তাঁরা দুজনই ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ।
এই সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয়দের বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়। মন্ত্রী থাকার সময় ইন্দ্রনীল সেন বিপুল আর্থিক অনিয়ম করেছিলেন বলে দাবি ইডি-র। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইডি কলকাতায় ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি, অফিস-সহ পনেরটি জায়গায় তল্লাশি করে। সেখানে ইউনেস্কো অনুমোদিত সংস্থা বলে ভূয়ো দাবি করে মাস আর্ট, সহযোগী সংস্থাগুলি বিপুল টাকা তোলে। ইডির দাবি, এই সব করে পুজোর বাণিজ্যিককরণ হয়, উৎসবকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছিল। কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরই মাস আর্ট সংস্থা গড়ে ওঠে। এর প্রধান ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তিনি সহ ওই সংস্থার পদস্থ আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সায়ন্তন মৈত্র, রঞ্জন চ্যাটার্জি প্রমুখ ইডি-র নজরে আছেন। পুজো দেখানোর জন্য এই সংস্থা টিকিট বিক্রি করত। দাম ছিল ১৭৪৯, থেকে ৫৪৯৯ টাকা। শুধু ২০২৩, ২০২৪ সালেই মাস আর্ট এক লক্ষর বেশি টিকিট বিক্রি করেছে। যা পরে আত্মসাৎ করা হয় বলে ইডি-র দাবি। এই ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।
আগামী ৭ অক্টোবর ইন্দ্রনীল সেনকে ইডি ফের তলব করেছে বলে জানা যায়।

Be the first to comment