প্রতিবেদন: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জোর করে অন্তত ১৫০টি আসনে হারানো হয়েছে। এসআইআরের নামে ভোট চুরি হয়েছে। কাউন্টিং বুথে ভোট লুঠ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখেমুখি হয়ে এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে এক সুরে কমিশনকে আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই সঙ্গে যে বিলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, সেই বিল নিয়ে এবার প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিন গোটা দেশের সংবাদ মাধ্যমের সামনে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় বিজেপি যে ভোট লুঠ করেছে তা তথ্য-সহ দেখিয়ে দেন মমতা, অভিষেক। তৃণমূলনেত্রী বলেন, বিজেপিকে জেতাতে পরিকল্পনামাফিকই বাংলার ভোটের আগে এসআইআর করা হয়েছে। বাংলার ভোট প্রক্রিয়াকে হাইজ্যাক করেছিলেন ভ্যানিশ কুমার ও সীমা খান্না! বিজেপিকে জেতাতে তা তথ্য দিয়েও দেখানোর চেষ্টা করেন নেত্রী। তিনি বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৮ ভোটে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে এসআইআরে ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ১৬৭ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নদিয়ায় ২০,৯০৩ ভোটে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে এসআইআরে ৪,৮৭,৫৬৫ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯,১৩,৯৪৩ ভোটে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে এসআইআরে বাদ দেওয়া হয়েছে ১২,৬০,০৯৬ ভোটারের নাম। এরকম একের পর এক জেলার নাম ধরে তথ্য তুলে ধরেন নেত্রী। নেত্রী বলেন, মার্চ মাসের নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই বাংলায় কার্যত পরোক্ষ রাষ্ট্রপতি শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যপাল পদে পরিবর্তন এনে তামিলনাড়ুতে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করা প্রাক্তন রাজ্যপালকে এ-রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আলিপুরের প্রশাসনিক ভবনের ৯ তলায় রাখা ৪,০০০ ইভিএম ও কাউন্টিং মেশিন রহস্যজনকভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এদিন সাংবাদিকদের সামনে তোলেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন অভিষেক সাংবাদিকদের সামনে বলেন, বিজেপিকে অন্তত ১৫০টি আসনে জোর করে জিতিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, একের পর এক কেন্দ্রে গণনার সময় যখন একের পর এক কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন তারপর শেষ বেলায় দেখা গেল সামান্য ভোটে বিজেপি প্রার্থীরা জিতে যাচ্ছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, যদি সাহস থাকে তবে গণনা কেন্দ্রের দুপুর ১২টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সিসিটিভির ফুটেজগুলো দেখানো হোক। ওই সময়ের মধ্যে বুথের ভিতরে তৃণমূলের এজেন্টদের মারধর এবং ভোট লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। নেত্রী বলেন, ভ্যানিশ কুমার অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ও রাজ্য স্তরে তাঁদের আন্দোলন থামবে না। ২০২৯ অবধি অপেক্ষা করতে হবে না। খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগেই কী কী হয়, দেখতে থাকুন। শিগগিরই সুখবর আসবে।

Be the first to comment