রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর:
পুজোর আবহে ছোট ছোট শিল্পীদের কল্পনার জগতে ফুটে উঠল দেবী দুর্গার নানা রূপ। শুক্রবার কৃষ্ণনগর পৌরসভার দিজেন্দ্রভবনের তৃতীয় তলে কৃষ্ণনগর চারুকলা সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত হল শিশুদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল দুর্গাপুজো। শিশুদের সৃজনশীলতাকে আরও উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতার নাম রাখা হয়—‘তুমি যদি দুগ্গা হতে’।

সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায় খুদে শিল্পীদের ভিড়। হাতে রং-তুলি ও পেন্সিল নিয়ে নিজেদের কল্পনাকে কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। কারও ছবিতে দেবী দুর্গা, কারও ছবিতে পুজোর মণ্ডপ, আবার কারও তুলিতে ধরা পড়ে বাঙালির চিরচেনা শারদোৎসবের নানা মুহূর্ত। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজকদের উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে গুণী শিল্পীদের সম্মাননাও প্রদান করা হয়। শিল্পচর্চায় তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে এই সম্মাননা দেওয়া হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের উৎসাহিত করতে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় মেডেল ও মেমেন্টো।


সংগঠনের সদস্য প্রীতম ভট্টাচার্য জানান, পুজোর আগে প্রতিবছরই তাঁরা এই ধরনের সৃজনশীল কর্মসূচির আয়োজন করে থাকেন। তাঁর কথায়, এর মাধ্যমে ছোটদের মধ্যে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। শিশুদের প্রতিভা ও কল্পনাশক্তিকে সামনে আনার পাশাপাশি শিল্পচর্চার প্রতি তাঁদের উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, গত বছরও সংগঠনের পক্ষ থেকে শিশুদের নিয়ে চালচিত্র অঙ্কনের একটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মশালাতেও ছোটদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের হাতে-কলমে শিল্পচর্চার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল সেই কর্মশালার উদ্দেশ্য।

আয়োজকদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশেও শিল্পচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নিয়মিত এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে ছোটদের শিল্পের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে চায় কৃষ্ণনগর চারুকলা সোসাইটি। দুর্গাপুজোর আবহে ‘তুমি যদি দুগ্গা হতে’ সেই প্রচেষ্টারই এক সুন্দর প্রকাশ হয়ে উঠল।

Be the first to comment