জীবিকা সেবকের বেতন-সহ কর্মসুরক্ষার দাবি, আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 

দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও বেতন ও কর্মসুরক্ষার নিশ্চয়তা মিলছে না এই অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানালেন পশ্চিমবঙ্গের জীবিকা সেবকরা। সোমবার কলকাতার মৃক্তিকা ভবনের সামনে পশ্চিমবঙ্গ জীবিকা সেবক অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন এই পেশার কর্মীরা।
সংগঠনের দাবি, ২০০৯-১০ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জীবিকা সেবক (বা কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক) কর্মীরা কাজ করে আসছেন। কৃষি, প্রাণীপালন, হাঁস-মুরগি পালন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। অতিরিক্ত গ্রাম রোজগার সেবক এর দায়িত্ব দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্বের সাথে পালন করে চলেছেন। কিন্ত মাসিক বেতন দীর্ঘ দিন ধরে পাচ্ছেন না।
সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের কাজের তুলনায় আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি -চন্দন ঘোষ, কার্যকারী সভাপতি -মহাদেব মন্ডল,
সম্পাদক -অপরূপ ব্যানার্জী বলেন, বহু জীবিকা সেবক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। এর ফলে তাঁদের নিজেদের সংসার চালানো নিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ইতি মধ্যেই ১৮জন জীবিকা সেবক সুইসাইড করছেন এই বেতন না পাওয়ার চাপ নিতে না পেরে ।


জীবিকা সেবকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বাস্তবসম্মত মাসিক বেতন পুজোর আগেই চালু করা, ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কর্মসুনিশ্চিতকরণ, জীবিকা সেবকদের ইপিএফ চালু করা, তাঁদের নির্দিষ্ট কাজের তালিকা প্রদান এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মতো অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া।
সংগঠনের আরও অভিযোগ, ২০০৯-২০১০ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পর থেকে তাঁদের জন্য বেতন কাঠামো, স্থায়ীকরণ, পিএফ বা ইএসআই-এর মতো সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার পরও তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।
এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আবেদন জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, দাবিগুলি দ্রুত বিবেচনা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন ৯৩২ জন জীবিকা সেবক। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*