Nandigram, Rejinagar এ রেকর্ড ভোটে জয়, ভোট দিয়েছেন সংখ্যালঘুরাও, বললেন উচ্ছসিত মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসন নন্দীগ্রামে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির হাসিরানী রথ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে ও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির শাখারভ সরকার। এতে উচ্ছসিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ দৃশ্যত খুশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুরাও তাঁদের ভোট দিয়েছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ওঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে যে সব প্রচার হয়েছিল, তা যে ভুল, ওঁরা তা বুঝেছেন। রাজ্যের উন্নয়নে সকলেই এখন শরিক হতে চান। এমনই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কড়া নিরাপত্তায় আজ সকাল থেকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপ নির্বাচনের ফলাফলের গণনা শুরু হয়। সব মহলে এর ফল প্রত্যাশিত হলেও জয়ের ব্যবধান কত হবে তা নিয়ে উৎকন্ঠিত ছিল গেরুয়া শিবির। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই কেন্দ্রেই জয়ের ব্যবধান বিপুলভাবে বাড়তে থাকে। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষিত লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তাঁর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে আগের সব রেকর্ড ভেঙে বিজেপির শাখারভ সরকার পঁচাত্তর হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতলেন। উভয় কেন্দ্রেই উল্লাস, উচ্ছাসে মেতে উঠলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিপুল জয়ে হাসিরানী রথকে উচ্ছসিত অভিনন্দন জানান।

এই ফলাফলকে তিনি ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব বলে সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করেন। নবান্নে দৃশ্য ত উচ্ছসিত মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাভাষী মুসলমানরা বিজেপির দিকেই ঝুঁকেছেন।নন্দীগ্রামে তাঁরা প্রায় ৮০% ও রেজিনগরে ৬০% মুসলমানদেরই ভোট পেয়েছেন। নন্দীগ্রামে তাঁদের প্রার্থী হাসিরানী রথ তাঁর রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। উল্লেখ্য , ২০১৬ সালে সাবেক তৃণমূল এর প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী ওই কেন্দ্রে ৮২ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। আজ হাসিরানী রথ তাঁর নিকট তম প্রার্থী কংগ্রেসের মিলন প্রধান কে ১ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

সংখ্যা লঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে ও মুসলমানরা তাঁদের ভোট দিয়েছেন। ওঁরা তাঁদের (বিজেপির) মধ্যে বন্ধু খুঁজে পেয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন। বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমরা, বিশেষত বাংলাভাষী মুসলমানরা বুঝতে পেরেছেন যে বিজেপি উন্নয়নের জন্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে চমক জাগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। দলের প্রার্থী মিলন প্রধানকে ভোটের আগে উনিশ বছরের পুরানো মামলায় গ্রেফতার করা নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন ওঠে। এই গ্রেফতারি তাঁর দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার কারণ কিনা সাংবাদিক দের প্রশ্নে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস মরা দল। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও কিছু হবে না।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীরা জোরদার আন্দোলন করছেন। রাষ্ট্র পতি আজ রাতে এই ইসুতে বিরোধী দের তাঁর সঙ্গে দেখা করার সময় ও দিয়েছেন। সারা দেশেই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক মুখ হয়ে উঠেছেন রাহুল গান্ধী, এমনটাই মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল। এই প্রেক্ষিতে তাঁকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী র তাচ্ছিল্য কর মন্তব্যে বিস্মিত বিভিন্ন মহল।

নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওখানে তৃণমূলের কিছু লোকজন তো আছে। তারাই (কংগ্রেসকে) ভোট দিয়েছেন। উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে নস্যাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খুনের মামলা তো তুলে নেওয়া যায় না৷ মিলন প্রধানের গ্রেফতার নির্বাচন কমিশনের ওয়ারেন্টে লাগু করতে বলেছিল। তেইশে দেবাংশু বসাকের বেঞ্চে মামলা ছিল। বামেরাও তখন সওয়াল করে আদালতে গেছিল তখন।
রেজিনগরে তাঁরা সংখ্যালঘুদের ভোটই বেশি পেয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওঁরা ভেদাভেদের উর্ধ্বে উঠে তাঁদের ভোট দিয়েছেন।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনে সংখ্যালঘুরাই তাঁদের ভোট দেয়নি বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওখানে তিনি যে সব উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন, সবই রূপায়িত হবে বলে জানান।
কলকাতা, হাওড়া সহ পুজোর পরের আসন্ন পুর নির্বাচনে বিরোধীদের হাল
যে খুব একটা সুবিধার হবে না তারও ইঙ্গিত দেন৷

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*