রোজদিন ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মদতে নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।
ওঁদের জন্যই একতরফাভাবে চলতেও পেরেছেন বলে কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী আজ তোপ (Rahul Gandhi slams) দাগেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরব তিনি। আজ জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে একই বন্ধনীতে নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে পরিস্কার বলেন, দেশে গণতন্ত্রের ওপর এত বড় আঘাত আগে আসেনি। এই কাজ যাঁরা করেছেন তাঁরা দেশদ্রোহী। এই সব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও তদন্তের মুখে পড়তে হবে বলে তোপ দাগেন। আজ সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক তথ্য সহ স্লাইড দেখান রাহুল গান্ধী। বলেন, ২০২৪ সালে ভূয়ো নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনমত তাঁর সঙ্গে ছিল না।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী নেতা বলেন, শুধু একটি নির্বাচনে ভোট চুরিই নয়, সংবিধানের ওপর, দেশের ওপর আঘাত এসেছে। তাঁরা এতদিন ধরে যা অভিযোগ তুলছিলেন, তা যে ঠিক, তা প্রমাণিত করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনারই। যাঁরা এর জন্য দায়ী, শাস্তি হবেই, তাঁরা তা নিশ্চিত করবেন বলে দৃঢ়ভাবে জানান তিনি। জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান, গণতন্ত্র কে তাঁরা কখনই শেষ হতে দেবেন না, তা রক্ষা করবেনই।
উল্লেখ্য, তাঁদের অন্ধকারে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন বলে দুই নির্বাচন কমিশনরারের বক্তব্য সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশব্যাপী রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন উঠেছে। গতকাল থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা ব্যানার্জি, এম এ বেবি সহ বহু বিরোধী নেতারা।
আজ দৃশ্যত ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধী এর জন্য সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকেও দায়ী করেছেন। তীব্র কন্ঠে বলেছেন, যাঁরা ভোটাধিকারের মত সংবিধানের মৌলিক ভিত্তিতে আক্রমণ করে, তাঁরা দেশদ্রোহী ছাড়া কিছু নয়।
দুই নির্বাচন কমিশনারকে অভিনন্দনও জানান রাহুল গান্ধী। বলেন, সব ক্ষমতাসীন সরকারকেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে তা কেন হয় না তিনি প্রশ্ন তোলেন। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাই দেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি বলে দৃঢ়ভাবে জানান।

Be the first to comment