Gyanesh Kumar issue তে বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ 

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আজ বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয় সারা দেশ। সকাল থেকে দিল্লি সহ উত্তর ভারতের একাধিক জায়গা এই ইসুতে রীতিমত সরগরম ছিল। কলকাতাতেও বামপন্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।

কংগ্রেস, সমাজবাদী দল, বামপন্থী দলগুলি, আপ সহ একাধিক দলের প্রবল বিক্ষোভে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ না নিলেও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আজ দিল্লিতে পথে নামে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপও। এসএফআই, আপ ইত্যাদি দল, সংগঠনের তুমুল বিক্ষোভে উত্তাল হয় যন্তর মন্তর।

আপের প্রাক্তন মন্ত্রী আতিশি, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিং, সিপিএমের বৃন্দা কারাত-সহ একাধিক নেতা, কর্মী, সমর্থকদের আটক করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত দিল্লিতে সাতশো জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্ষোভের মোকাবিলায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, যোগেন্দ্র যাদব, নেহা বোরাকেও আজ আটক করে দিল্লি পুলিশ।

যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা।

বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে যন্তর মন্তর সংলগ্ন এগারটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে ছুটি থাকায় নিত্যযাত্রীদের তেমন অসুবিধা না হলেও বিক্ষোভ স্থলে অংশ নিতে অনেককে ঘুর পথে আসতে হয়। একের পর এক বিরোধী দলের তুমুল বিক্ষোভের আঁচে আজ রীতিমত উত্তপ্ত হয় রাজধানী দিল্লি।

বিক্ষোভকারী দের ছত্রভঙ্গ করতে বহু এলাকায় বল প্রয়োগ করে পুলিশ। টেনে হিঁচড়ে বহু বিক্ষোভকারী কে পুলিশের গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। এর তীব্র নিন্দায় মুখর হন বিরোধী নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারের পাশে মোদি, শাহর বিরুদ্ধেও তুমুল ধ্বনি ওঠে।

এস আই আর, ভোটার তালিকায় নাম বাদ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্ত র খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সুর তুঙ্গে তুলেছে বিরোধী পক্ষ।

উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ এ সমাজবাদী দলের তুমুল বিক্ষোভ হয়।

কলকাতায় জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিশাল মিছিল সমাবেশ করেন বামপন্থীরা। গান্ধী জয়ন্তীতে তাঁদের ধ্বনি ছিল, গান্ধী – নেতাজির দেশকে নাথুরামের সমর্থকদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সভায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আজ মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। স্বাধীনতা আন্দোলন, গণ আন্দোলনকে এক সূত্রে বেঁধে প্রায় দুশো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তিই হোল সংবিধান। এখন সেই সংবিধান ও মানুষের অধিকারকে শেষ করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমতাকে শেষ করা হচ্ছে।

মাথা নত করা হচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে। মোদি সরকার দেশের স্বাধীন বিদেশ নীতিকে শেষ করেছে। ঐক্য, বিজ্ঞানমনস্কতা, স্বাধীন তার ধারা শেষ করছে বিজেপি। এখন নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে অর্জিত ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি তোপ দাগেন। জ্ঞানেশ কুমারকে আর এস এসের এজেন্ট বলেন তিনি।

দিল্লিতে এইদিন এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য, এ এ রহিম গ্রেফতার হয়েছেন। সেলিম বলেন, যৌবন আজ বিদ্রোহ করেছে। তাঁদের দমাতে চায় মোদি সরকার।

ব্রিটিশরাও চেষ্টা করে যা পারেনি। বিদেশি শাসক পথের দাবিকে নিষিদ্ধ করেছিল। প্রতিবাদকে কখনো দমানো যায় না।

মিছিল সমাবেশে সুজন চক্রবর্তী, কার্তিক পাল, বাসুদেব বসু, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্ট বামপন্থী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*