রোজদিন ডেস্ক :
অনিয়মিত কলেজে আসার দায়ে কর্তৃপক্ষ তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দিতে আপত্তি করেছিলেন। এর প্রতিবাদে টানা ২৩ ঘন্টার বেশি সুরেন্দ্র নাথ আইন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কে ঘেরাও করে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির এবিভিপি-র ছাত্র সংগঠনের দিকে।
সূত্রের খবর, কলেজে ৭৫% র নীচে অনিয়মিত হলে পড়ুয়া দের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যায় না। সূত্রের খবর, একটি সেমিস্টারে ১৮০ জন পড়ুয়ার ১৪৪ জনেরই ৪০% এর নীচে উপস্থিতি ছিল।
কলেজের পরিচালন সমিতির প্রধান বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচি র সঙ্গে পড়ুয়ারা তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনা করেন। তিনি ৭৫% এর কম উপস্থিতি হলেও তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার কথা বলেন। সঙ্গে এই বিষয়ে পড়ুয়া দের সেল্ফ ডিক্লারেশন করতে পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে পড়ুয়ারা গতকাল থেকে উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কে ঘেরাও করে তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার দাবি জানান। তিনি তৃণমূল সমর্থক বলেও তাঁকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।
দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও থাকার পর দৃশ্যত ক্লান্ত উপাধ্যক্ষ পদত্যাগ করেন। জানান,পড়ুয়াদের চাপে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এর নেপথ্যে ষড়যন্ত্র আছে।
পদত্যাগী উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর পড়ুয়া রা আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়েন বলে জানা যায়। এবিভিপি র গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে তাঁরা ওখানে শুদ্ধিকরণ ও করেন।
যা নিয়ে শিক্ষা মহলের একাংশ উদ্বিগ্ন।
সিপি এম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য আসতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
সম্প্রতি শিক্ষক দিবসে যেভাবে জলপাইগুড়িতে প্রধান শিক্ষক কে হেনস্থা করা হয়, ২৩ ঘন্টার বেশি ঘেরাও করা হয় সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের উপাধ্যক্ষকে, পরিস্থিতি কোন দিকে এরপর যাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।
সর্বোপরি উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর সেখানে শুদ্ধিকরণ কেন, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে গুরুতর প্রশ্ন চিহ্ন উঠেছে।

Be the first to comment