রোজদিন ডেস্ক : তিনি সোচ্চার ছিলেন গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে। চেয়েছিলেন পাহাড়ের উন্নয়ন। বিজেপি কথা দিলেও সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কার্শিয়াং-এর বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা পদ্মফুল বদলে আজ ঘাসফুলে যোগ দিলেন।
তৃণমূল ভবনে দুই মন্ত্রী শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু তাঁকে স্বাগত জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে পতাকা তুলে দেন। বিষ্ণু প্রসাদ শর্মাও তাঁদের হলুদ উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ের বিজেপি বিধায়কের শাসকদলে যোগদান তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই দলে যোগ দিলেন বলে বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, সারা দেশে উনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি মানুষের কথা ভাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁকে বলেন, এমন একজন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন লেখক, সাংবাদিক, “মাটির মানুষ ” আজ মা মাটি মানুষের দলে যোগ দিলেন!
শিল্প মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, উনি বিজেপিতে যে কতটা অস্বস্তিতে থাকতেন, তা বিধানসভায় দেখলেই বোঝা যেত। ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে প্রাক্তন দল বিজেপি-র বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা বলেন, তিনি একটাই ধর্মে বিশ্বাস করেন, তা হল মানবতা। বিজেপিকে তিনি বিশৃঙ্খল রাজনীতির পরিচায়ক বলে জানান। জুমলা করে ভোট পায় বলে মন্তব্য করেন। পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের কথা বলেও দেয়নি, গোর্খাদের বিজেপি একটা সুতোও দেবে না বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন।
দার্জিলিং-এ কেন্দ্রের পাঠানো মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা নিয়েও কেন্দ্র, দার্জিলিং-এর সাংসদকে তুলোধুনো করেন।
তাঁর শাসক দলে যোগদানের প্রভাব ভোটের বাক্সে পড়বে বলে আশা।
যদিও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের দাবি, বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা লোকসভা নির্বাচনে নির্দল হয়ে রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭/৮ হাজার ভোটও পাননি। দলে ওঁর কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই।

Be the first to comment