রোজদিন ডেস্ক : চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৯ জনের পরিচয় প্রকাশ করল প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছেন ভিন রাজ্যের দুই বাসিন্দা। তারা বিহার থেকে এ রাজ্যে ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন। বাকি ১৭ জনই এই রাজ্যের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এদিন রাতে ১৯টি দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও মিলেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অন্তত সাত জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে এবং ফুসফুস ফেটে মৃত্যু হয়েছে। কয়েক জনের দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে কয়েক জনের মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সেই আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিহার থেকে অভিষেক শ্রীবাস্তব পরিবার নিয়ে পুজোয় কলকাতা এসেছিলেন। পরিবার নিয়ে গিয়েছিলেন চোরবাগানে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী বেঁচে গেলেও অভিষেক ও সাত বছরের ছেলে আয়াংশের মৃত্যু হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরের বাসিন্দা দুই বন্ধু তানিয়া বিশ্বাস ও বর্ণালী হালদার। দু’জনেরই বয়স ১৭/১৮ এর কাছাকাছি। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় দুই কিশোরীর। হুগলির বৈদ্যবাটির বাসিন্দা বছর সাতাশের শ্রীপর্ণা পোদ্দার পেশায় নার্স। চাকরি করেন টাটা ক্যানসার হাসপাতালে। শনিবার সকালে ডিউটি সেরে বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন ঠাকুর দেখতে। তারপর সব শেষ। বন্ধুদের থেকে খবর পেয়ে হতবাক শ্রীপর্ণার বাবা-মা। এছাড়াও মৃতের তালিকায় রয়েছেন হাওড়ার সালকিয়ার প্রৌঢ় বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬)। বালির মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকৃতি কুমারি (১৬), খড়দহের কল্পনা জানা (৪৬), পূর্ব বর্ধমানের টগর বেজ (৩৭), সন্দীপ বেজ (১৪), চাকদহের আরতি সরকার (৪৭), বাকরাহাটের স্নেহা ভান্ডারি (২০), আরামবাগের পিয়ালী প্রামাণিক (২৫), আগরপাড়ার প্রাঞ্জল সরকার (১৩), নিউ বারাকপুরে প্রিয়া সমাদ্দার (১৮), বরানগরের দিলীপ ঘোষ (৫৯) ও দীপালি ঘোষ (৪৬) রয়েছেন।মৃতদের মধ্যে কলকাতার বাসিন্দাও রয়েছেন। তারা হলেন শ্যামপুকুরের মিঠু মণ্ডল (৪৫), মানিকতলার শুভম সরকার (২৩)।

Be the first to comment