প্রতিবেদন: সপ্তমীর ঠাকুর দেখে আর বাড়ি ফেরা হল না ১৭ বছরের আকৃতি কুমারীর। শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট (Chorbagan stampede) হয়ে মৃত্যু হল হাওড়ার বালি আনন্দনগরের বাসিন্দা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকৃতির। উৎসবের মাঝে ঘরের মেয়ের অকাল মৃত্যুতে বাকরূদ্ধ গোটা পরিবার। একই ছবি হাওড়ার সালকিয়ার ভট্টাচার্য পরিবারেও। পরিবারের সদস্য বছর পয়ষট্টির অকৃতদার বিকাশ ভট্টাচার্যেরও মৃত্যু হয়েছে চোরবাগানের মণ্ডপে। শোকস্তব্ধ পরিবার অভিযোগের আঙুল তুলছেন আয়োজকদের দিকেই।
পুজোয় বিহারের গয়া থেকে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন কিশোরী আকৃতির মামা-মামী, দিদি-সহ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের সঙ্গেই শনিবার বিকেলে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিল আকৃতি। ছিল ভিআইপি পাস। কিন্তু ভিড়ের চাপে ঠেলাঠেলি এবং পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় ওই কিশোরী। রবিবার সকালে আকৃতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বালি আনন্দনগরের বাড়িতে ভিড় জমান প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনেরা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আকৃতির মা ও পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জনকে হারিয়ে কার্যত বাকরুদ্ধ তারা। আকৃতির এই মৃত্যুর জন্য পুজো কমিটির গাফিলতিকেই দায়ী করেছে পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তা বেশ সরু হওয়ায় ভিড়ের মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই অব্যবস্থার জেরেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলেই তাঁদের দাবি।
ওদিকে ঠাকুর দেখার নেশাই কাল হল হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা ৬৫ বছরের বিকাশ ভট্টাচার্যের। শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে একাই উত্তর কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন অকৃতদার বিকাশবাবু। সন্ধ্যায় চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের সদস্যদের কথায়, প্রতি বছরই একা ঠাকুর দেখতে বেরোতেন বিকাশবাবু। ঠাকুর দেখার প্রতি তাঁর ছিল খুব টান। শনিবার সন্ধ্যার পর ফোনে বিকাশবাবুর অসুস্থতার খবর দেয় পুলিশ। খবর পেয়ে মেডিকেল কলেজে যান তাঁর ভাই তাপস ভট্টাচার্য। সেখানে সাদা চাদরে ঢাকা অবস্থায় দাদার শরীরটা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। দেহ শনাক্ত করেন তাপসবাবু। প্রিয়জনকে এভাবে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। এই ঘটনার জন্য পুজো কমিটির গাফিলতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাপসবাবু। তাঁর অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে পুজো মণ্ডপে বিপুল জনসমাগম, প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তা সংকীর্ণ হওয়া এবং মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর অভাবই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

Be the first to comment