বন্ধ ঘর খোলার দাবিতে ডিএল কলেজে (DL College) এবিভিপির বিক্ষোভ

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর : 

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলেজের একটি ঘর খোলার দাবি এবং অধ্যক্ষকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির দাবিতে কৃষ্ণনগরের ডিএল কলেজে (DL College) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, গত জানুয়ারি মাসে আন্দোলনের পর কলেজের দোতলায় অধ্যক্ষের ব্যবহৃত একটি ঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরটি এখনও বন্ধ থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির নিষ্পত্তি না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নামেন তাঁরা।

এদিন কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল, দোতলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঘরটি আইনসঙ্গতভাবে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, অধ্যক্ষকে ঘিরে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলেও দাবি জানান তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা বা চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ এখনও সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রক্রিয়ার বিষয়। আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, ওই ঘরের ভিতরে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত ব্যবহারের কিছু ব্যবস্থা রয়েছে, এমনকি সেখানে বেডরুম থাকার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বিক্ষোভের সময় অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ফলে তাঁরা কলেজের টিচার ইনচার্জের কাছে তাঁদের দাবি জানান এবং বন্ধ ঘরটি খোলার আবেদন করেন।

কলেজের টিচার ইনচার্জের বক্তব্য, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় এই মুহূর্তে ঘরটি খোলার বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে বলেও তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আইনগত অবস্থান বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বিচারাধীন অবস্থায় কেউ যদি নিজের উদ্যোগে ঘরটির তালা ভাঙার চেষ্টা করেন, তাহলে তা আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তাই ঘরটি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করা এবং অধ্যক্ষকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানিয়েছে এবিভিপি।

অধ্যক্ষকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়েছে বলেও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বন্ধ থাকা ঘর, অধ্যক্ষকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং বিষয়টি বিচারাধীন থাকার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ডিএল কলেজে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনসঙ্গতভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি চান। অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিচারাধীন বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও বিধি মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*