রাজার প্রয়াণে বিষাদের ছায়া, পুরোহিতের নামেই সংকল্প কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজোয়

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর, নদিয়া : 

ঐতিহ্য আছে, রয়েছে পুজোর চিরাচরিত আচার-অনুষ্ঠানও। হোমকুণ্ডে জ্বলছে পবিত্র অগ্নিশিখা, মন্ত্রোচ্চারণে মুখর রাজবাড়ির প্রাঙ্গণ। তবুও এ বছর কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যেন কোথাও একটা সুর কেটে গিয়েছে। উৎসবের আবহের আড়ালে নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া। কারণ, এ বছর আর রাজবাড়ির পুজোয় উপস্থিত থাকবেন না পরিবারের প্রয়াত রাজা। তাঁর অনুপস্থিতিই যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, সময়ের নিয়মে বদলে যায় অনেক কিছু, কিন্তু স্মৃতি থেকে যায় অমলিন।

মহালয়ার পরের দিন হোমকুণ্ডে অগ্নিপ্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো। নিয়ম মেনে নবমী পর্যন্ত চলবে হোমযজ্ঞ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে এবারও ছেদ পড়েনি। তবে রাজপরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি এ বছরের পুজোকে অন্য এক আবেগে মুড়ে দিয়েছে।

রাজার প্রয়াণের কারণে এ বছর পরিবারের কোনও সদস্যই পুজোয় অংশ নেবেন না। সেই কারণেই এবার দুর্গাপুজোর সংকল্প করা হবে পুরোহিতের নামেই। রাজবাড়ির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সম্পন্ন হবে পুজোর যাবতীয় ধর্মীয় আচার। কিন্তু নিয়মের এই ধারাবাহিকতার মধ্যেও অনুভূত হচ্ছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

রাজবাড়ির পুজো মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজপরিবারের স্মৃতি এবং কৃষ্ণনগরের মানুষের আবেগ। বছরের এই বিশেষ সময়ে রাজবাড়ির প্রাঙ্গণ ঘিরে যে উৎসবের অনুভূতি তৈরি হয়, এবার সেখানে আনন্দের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে শোকের নীরবতা।

এদিকে, এ বছর থেকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে দশমীর সিঁদুর খেলা আর হবেনা বলে জানিয়েছেন রানি অমৃতা রায়। অর্থাৎ, একদিকে শোকের আবহ, অন্যদিকে ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন সংযোজন—দুইয়ের মেলবন্ধনেই এগিয়ে চলেছে এবারের পুজো।

দেবী দুর্গার আরাধনায় মেতে উঠবে রাজবাড়ি, সম্পন্ন হবে প্রাচীন রীতি-নীতি। হোমকুণ্ডের আগুন জ্বলবে, মন্ত্রের ধ্বনি উঠবে রাজবাড়ির অন্দরে। কিন্তু সেই চেনা পরিবেশের মাঝেও বারবার ফিরে আসবে এক অনুপস্থিতির অনুভব। কারণ, পুজোর আয়োজন যতই সম্পূর্ণ হোক, প্রিয়জনের শূন্যস্থান কোনও আচারেই পূরণ করা যায় না।

ঐতিহ্যের পথে এগিয়ে চলেছে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। তবে এ বছর সেই ঐতিহ্যের প্রতিটি পরতে যেন মিশে রয়েছে স্মৃতি, শোক আর নীরব দীর্ঘশ্বাস। আনন্দের উৎসবেও তাই বারবার মনে পড়ছে সেই মানুষটির কথা, যাঁর অনুপস্থিতি এবারের পুজোকে করে তুলেছে অন্য রকম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*