রোজদিন ডেস্ক : ভোটের বাংলায় হঠাৎ চর্চায় শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিএম। সৌজন্যে দলেরই যুব নেতা, নতুন প্রজন্মের মুখ ও গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের বাম প্রার্থী প্রতীক উর রহমান। আচমকা “খাপ খাওয়াতে পারছি না” দলের সমস্ত পদ এমনকী প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন প্রতীক। তারপরই জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক সন্ন্যাস নাকি, দলবদল? কিন্তু তাঁর ইস্তফাপত্র বা ভবিষ্যত কোনওটা নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে সিপিআইএম নেতৃত্বের একাংশকে তুলোধনা করেন প্রতীক উর। তাঁর পয়লা নম্বর নিশানা রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে এসে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়েরও প্রশংসা করেন। তবে সরাসরি তিনি তৃণমূলে যাচ্ছেন কিনা তা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। তবে তাতে জল্পনা থামছে না। উল্টে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তাঁর তৃণমূলের যাওয়ার জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগদান এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে, অথবা তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। তৃণমূলে গেলে তাঁকে বিধানসভার কোনও আসনে লড়াই করতে দেখার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব নিয়ে যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হচ্ছে, এ জাতীয় জল্পনা চলতেই থাকবে। অনেকেই বলছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে তাঁর। মন্তব্যের মধ্য দিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতীক উর। তাঁর কথায়, একটা সময় আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে বলতাম ভিক্ষা। এখন বুঝছি ওটা ভিক্ষা নয়, ওটা মানুষের অধিকার। মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে তাঁদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়েছেন। মা, বোনেরা তাঁদের আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছে। আমরা আগে ভুল বুঝেছিলাম। পরে বুঝেছি ওটাকে ভিক্ষা বলা যাবে না।আমরাও তো পরে স্বীকার করেছিলাম যে কাজগুলো ভালো করেছে রাজ্য। এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। এখানেই শেষ নয়, সিপিএম মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পদত্যাগের চিঠি ও তৃণমূল যোগের জল্পনায় গত কয়েকদিন ধরে শিরোনামে সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান। প্রথমে মুখ না খুললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলছেন দল নয়, কিছু নেতার উপর তিনি বীতশ্রদ্ধ। এখনও আরও কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরই স্পষ্ট হবে প্রতীক উরের ভবিষ্যত।

Be the first to comment