রাজ্যের এসআইআর নিয়ে নজিরবিহীন নির্দেশ শীর্ষ আদালতের, তথ্যগত অসঙ্গতি র বিচার বর্তালো বিচার বিভাগের ওপর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : এসআইআর নিয়ে এবার রাজ্য সরকার, নির্বাচন দফতর, উভয়ের ওপরই ভরসা রাখলো না শীর্ষ আদালত। আজ নজিরবিহীনভাবে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যে তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে এত প্রশ্ন, সমস্যার কথা উঠছে, চলছে পারস্পরিক দোষারোপের পালা, এখন থেকে তার নিষ্পত্তি করবেন বিচার বিভাগের আধিকারিকরাই। এর জন্য আধিকারিক দিতে তাঁরা কলকাতা উচ্চ আদালতকে অনুরোধ করেছেন।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চের এই রায় বেনজির বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন। বস্তুত রাজ্যে এসআইআর নিয়ে যেভাবে রাজ্য সরকার, নির্বাচন কমিশনের ঠান্ডা লড়াই চলছে, এতে অসন্তুষ্ট তাঁরা। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর বেঞ্চ আজ পরিস্কার ইঙ্গিত দেন, এই পারস্পরিক কাজিয়া আর বেশিদিন চলতে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত দিনেই এই প্রক্রিয়া শেষ করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালিকা দিয়ে নাম প্রকাশ করা যাবে।

রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি এই নির্দেশকে নির্বাচন কমিশনের পরাজয় বলে মন্তব্য করেন।
যদিও অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, শীর্ষ আদালতের এই রায়ে ফের মুখ পুড়েছে রাজ্যেরও। উল্লেখ্য এই রাজ্য-সহ ভোটমুখি কেরালা, তামিলনাড়ুতেও এসআইআর হয়েছে। বিজেপি বিরোধী ওই রাজ্যগুলির সরকারও এসআইআরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিধানসভায় প্রস্তাব নিয়েছে। এই ছাড়া ১২টি রাজ্যেই এসআইআর হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, অন্য রাজ্যগুলিতে এসআইআর নিয়ে এত সমস্যা, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তুমুল বাদ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ইত্যাদি হয়নি, যতটা পশ্চিমবঙ্গে হয়েছে। আজ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্টই জানিয়ে দেন, এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, রাজ্য সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। রাজ্যের এই ভূমিকায় তাঁরা হতাশ। রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি আছে বলেও প্রধান বিচারপতি জানান।
কলকাতা উচ্চ আদালতকে আধিকারিক দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা এই বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সহায়তা করবেন। তাঁদের নির্দেশই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ বলে গণ্য করতে হবে, রাজ্যকে অবিলম্বে তা পালন করতে হবে বলেও তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায়
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে রাজ্য সরকার কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে কমিশনের বক্তব্য, রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় কর্মী দেয়নি, সহযোগিতাও করেনি।
প্রথম থেকেই কমিশনের কাজে অসহযোগিতা করেছে। এই সব নিয়ে উভয় পক্ষে মনোমালিন্য তুঙ্গে ওঠে। রাজ্য সরকার প্রথমে উচ্চ আদালত, পরে শীর্ষ আদালতে যায়।
আজ শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারের এই সব বক্তব্য, যুক্তি মানা হবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালিকা পরে দেওয়া হবে।
আগামীকাল শনিবার কলকাতা উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে এই সব নিয়ে রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালত। সেখানে মুখ্য সচিব, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, রাজ্য পুলিশের ডিজি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেলও থাকবেন। এসআইআরের কাজে উচ্চ আদালত বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারপতিদের নিয়োগ করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা পর্যন্ত তাঁরা থাকবেন। এই ব্যবস্থায় আদালতের স্বাভাবিককাজে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে, সেই ক্ষেত্রে কিছু মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তরিত করা যাবে বলে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে।
সময়ের মধ্যে এসআইআরের কাজ শেষ করার জন্য কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*