আনন্দপুরে মৃত্যু মিছিল বাড়ছে, শোক, হতাশা, বিষাদের নিরানন্দপুরে বাড়ছে ক্ষোভও

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : অগ্নি দানবের করাল গ্রাসে দগ্ধ আনন্দপুরের কারখানায় মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। মঙ্গলবার আরও তিনটি মৃত দেহ মিলেছে। কিন্তু তাঁদেরও চেনার কোন উপায় নেই।। এতটা ই পুড়ে খাক হয়ে গেছে শরীর। জীবন্ত জ্বলে পুড়ে যাওয়া এই অসহায় মানুষদের অকাল মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুটছে এলাকা, ক্ষুব্ধ বিরোধী রাজনৈতিক মহল। গ্রাম থেকে রুটিরুজির সন্ধানে আসা এত তরুণ প্রাণ কিভাবে পুড়ে খাক হয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন সব মহলেই।
এখন ও ১৫ জন নিখোঁজ।  ধ্বংসস্তুপে মিলেছে হাড়গোড়, শরীরের দেহাংশও। যা দেখে শিউরে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। দাবি উঠেছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের। দাবি উঠেছে ক্ষতিপূরণের।
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। যা শুনে নিখোঁজ এক জনের অসহায় স্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কি হবে এই টাকায়? সংসার চলবে?
উত্তর নেই।
প্রশ্ন তুলেছেন এআইইউটিইউসি-র রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস। কেন এই দরিদ্র পরিবারের তরুণদের ওই জতুগৃহ সদৃশ ঘরে রাখা হোত? এই ঘটনায় ২৬ জন নিখোঁজ বলে তাঁর দাবি। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন। নিহতদের পরিবার পিছু ৫০, লক্ষ টাকা, ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন আইএসএফ বিধায়ক নৌসাদ সিদ্দিকি। প্রশ্ন তুলেছেন, কেন প্রায় প্রতিদিন আগুন লাগছে? এই সব আগুন কি লাগানো হচ্ছে? জলাজমিতে বাড়ি করে গুদাম হল কি ভাবে জানতে চেয়েছেন তিনি।
আগুন লাগার ত্রিশ ঘন্টার বেশি পরে ওখানে গেছেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁকে দেখে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ জন। ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে গুদামের মালিক, প্রশাসনের বিরুদ্ধেও।
জলাজমিতে কিভাবে এই গুদাম তৈরি হোল, জবাব চান সকলেই। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা তাঁর এলাকার নিখোঁজদের জন্য উদ্বিগ্ন। অসহায় পরিবারগুলির পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। দমকলের আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিভেছে। কিন্তু ক্ষোভের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে, যা সহজে নেভার নয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*