রোজদিন ডেস্ক :
সারা দেশে আলোড়ন তোলা মেরঠের মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত কে নৃশংস ভাবে হত্যার দায়ে তাঁর স্ত্রী মুস্কান ও প্রেমিক সাহিল শুক্ল কে মৃত্যু দন্ড দিল আদালত। শুধু হত্যাই না, স্বামীর দেহ খন্ড, খন্ড করে একটি নীল ড্রামে ভরে তার ওপর সিমেন্ট ঢেলে দিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর স্ত্রী মুস্কান রাস্তোগি তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লর সঙ্গে হিমাচল প্রদেশ বেড়াতেও চলে যান। দু সপ্তাহ আগেই হাড় হিম করা এই হত্যাকান্ডে যুগল কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। আজ মেরঠ আদালতের জেলা বিচারপতি অরবিন্দ মিশ্র একে বিরল থেকে বিরলতম অপরাধ মনে করেন।।বলেন,এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনা বৃহত্তর সমাজে ভীতির সৃষ্টি করে। তিনি দুই অভিযুক্ত কেই মৃত্যু দন্ড দেন।
ভয়াবহ এই হত্যা মামলায় ১২৬ টি শুনানি হয়। ২২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়। তবে পুলিশের কাছে নীরব সাক্ষী ছিল নীল ড্রামটি, যার মধ্যে নিহত সৌরভ রাজপুতের দেহ প্রমাণ লোপাটের জন্য টুকরো করে রেখে তার মধ্যে বালি, জল, সিমেন্ট ঢেলে মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন প্রেমিক যুগল।।
২০২৫ সালের ৩ মার্চের এই হত্যাকান্ডের ঘটনা সামনে এলে শিউরে উঠেছিল সারা দেশ। স্বামীকে প্রথমে খাবারে বিষ মিশিয়ে অজ্ঞান করেছিলেন মুস্কান। এরপর প্রেমিককে নিয়ে কুপিয়ে খুন করেন তাঁকে। স্বামীরই মোবাইল থেকে তাঁর আত্মীয়দের মেসেজ করে জানান, ব্যবসার কাজে বাইরে যাচ্ছেন তিনি। মার্চেন্ট নেভির অফিসার সৌরভ রাজপুত বিদেশে থাকতেন। মেরঠে থাকা মুস্কানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় সাহিলের। সৌরভ ফেরার পর তাঁকে হত্যার ছক করেন তাঁরা। পরে তাঁদের মোবাইলের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে, বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চলে।
মৃত্যুদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে যেতে পারেন বলে আইনজীবী মহল মনে করেন।

Be the first to comment