রোজদিন ডেস্ক : গণতান্ত্রিক অধিকার আজ এক চরম প্রহসন ও গভীর ষড়যন্ত্রের মুখে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক কথায় রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটারের নাম বেআইনিভাবে মুছে দেয় নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এমনই অভিযোগ করা হয়েছিল। এবার তাতেই কার্যত সিলমোহর পড়ল। খোদ নির্বাচন কমিশনের তথ্য প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। কমিশনের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী, মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭ জমা করতে হয়। নিয়ম হল, কোনও সাধারণ ভোটার দিনে ১০টির বেশি এবং কোনও বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) ৩০টির বেশি ফর্ম-৭ জমা দিলে ইআরও বা এইআরও-দের তা বাধ্যতামূলকভাবে খতিয়ে দেখতে হয়। দেশের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, যাঁর নাম বাদ যাচ্ছে তাঁকে নোটিশ পাঠিয়ে শুনানির বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেআইনিভাবে ‘অটো জেনারেটেড’ ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে বাংলার ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটারের নাম রাতারাতি বাতিল করে দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ। সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি উঠেছে ডিজিটাল জালিয়াতি ও ইসিআই-নেট পোর্টালের ব্যবহার নিয়ে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের কাউকেই নোটিশ দেওয়া হয়নি বা কারণ দর্শানো হয়নি। ইআরও-রা আইনত নিজে থেকে কোনও ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন না, অথচ এই লক্ষ লক্ষ নাম বাতিলের ক্ষেত্রে ইআরও-দের ডিজিটাল স্বাক্ষর বা সই ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে সম্পূর্ণ পিছনের দরজা দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকা থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহল ও বিরোধীদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি চরিতার্থ করতেই এই চক্রান্ত করা হয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে।

Be the first to comment