প্রতিবেদন: সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সামাল দিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ, প্রশাসন। নিরাপত্তার বাড়াবাড়ির নামে সাধারণ জনজীবনে নিষেধাজ্ঞা চাপানো যেন না হয়, এই নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলনের মোকাবিলায় রাস্তাঘাট, রেল স্টেশন, মেট্রো বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এই অভিযোগ উঠতেই কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশ পালন করতে না পারায় বৃহস্পতিবার আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সেই সঙ্গে আন্দোলনের মোকাবিলা সপক্ষে যুক্তি খাড়া করে পেশ করা হলফনামায় দিল্লি পুলিশের দাবি আমজনতার সুরক্ষার কথা ভেবেই ওই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
গত ১০ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ মোকাবিলার নামে একদিন আগে থেকে দিল্লিগামী সব ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করা হয় মেট্রো ও ইন্টার নেটও। জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড এবং আধাসেনাও মোতায়েন করা হয়। অথচ কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, বিক্ষোভের জন্য দিল্লি অবরুদ্ধ করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই ৮ অক্টোবর রাত থেকে দিল্লিগামী সমস্ত ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করা হয় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন। রাইসিনা হিলের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। দিল্লি পুলিশ শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে দাবি করেছে, নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে ওই পদক্ষেপগুলি জরুরি ছিল। সেই সঙ্গে এরজন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব গোবিন্দ মোহন নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়ে নেন। তাঁর সাফাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখতেই সাময়িকভাবে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

Be the first to comment