তদন্তে নেমে অপরাধ জগতের সঙ্গে সুশীল কুমারের আরও যোগ খুঁজে পাচ্ছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। শুধু কালা জাঠেড়িই নয়, জেলবন্দি আরও এক গ্যাংস্টার নীরজ বাওয়ানার সঙ্গেও ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল সুশীলের। একের পর এক চকমপ্রদ ঘটনা উঠে আসায় সাগর ধনকড় হত্যাকাণ্ড মামলায় নয়া মোড় নিয়েছে। হঠাৎ ঝামেলা, মারামারি থেকে প্রাণ হারাননি ২৩ বছরের কুস্তিগির। এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল বলেই ধারণা দিল্লি পুলিশের।
দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ-হরিয়ানা বর্ডারের দখল নেওয়ার জন্যই এই ঝামেলা। সুশীলের ভারত থেকে ফেরার অপরাধী জাঠেড়ির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং নীরজের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ার একাধিক সূত্র মিলেছে।
৫ মে ছত্রসাল স্টেডিয়ামের বাইরে যে ঝামেলায় সাগর প্রাণ হারান, সেখান থেকে একটা স্করপিও গাড়ি সিজ় করেছে পুলিশ। যে গাড়ির মালিক বাওয়ানা ঘনিষ্ঠ মোহিতের। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার সময় সুশীলের সঙ্গী হিসেবে বাওয়ানা গ্যাংয়ের আরও অনেকেই ছিল।
দিল্লি পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কিছুদিন আগে মডেল টাউনে একটি তোলাবাজির ঘটনার সঙ্গেও যোগ রয়েছে সুশীলের। জাঠেড়ির লোকজন একটি কেবল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি টাকা তোলা চেয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছিলেন সুশীলও। তখনও জাঠেড়ি আর সুশীলের সম্পর্ক পুরোপুরি ভাঙেনি। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ-হরিয়ানা বর্ডারের টোল প্লাজাগুলোর দখল পুরোপুরি নেওয়ার জন্য সুশীলের সাহায্য চেয়েছিল জাঠেড়ি। কিন্তু মাস দুয়েক আগে মডেল টাউনের ফ্ল্যাট ঘিরে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হলে নীরজের গ্রুপকে সাহায্য করতে শুরু করেন সুশীল। আর তা থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে।
একদিকে যেমন জাঠেড়ির ভাইপো সনুকে মারার জন্য তার লোকজন হন্যে হয়ে খুঁজছিল সুশীলকে, তেমনই অন্যদিকে অলিম্পিয়ান কুস্তিগিরকে পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লির নানা গোপন ডেরায় লুকিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় নীরজের লোকজন।
সব মিলিয়ে সুশীল কুমার এখন যেন চমকের আবর্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। যত জেরা করা হচ্ছে, নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে।

Be the first to comment