লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-দুয়ারে রেশন-উচ্চশিক্ষায় ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প নিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করলো রাজ্য সরকার

Spread the love

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের মানুষকে তিনটি উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসার পর তাঁর মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকেই তিন প্রকল্প কার্যকরের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে তিনটি টাস্ক ফোর্স গড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রী এগুলি রূপায়ণে কিছুটা সময় চান। কী ভাবে এগুলি কার্যকর হবে, তার রূপরেখা স্থির করতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে অফিসার পর্যায়ে তিনটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

এই তিন জনমুখী কর্মসূচি হলো: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের একজনকে মাসে ৫০০ টাকা করে এবং তফসিলি জাতি ও আদিবাসী পরিবারের একজনকে মাসে এক হাজার আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে), উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ক্রেডিট কার্ড চালু এবং দুয়ারে রেশন কর্মসূচি। এ ছাড়াও কলকাতা পুলিশে আড়াই হাজার কর্মী পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ করার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা ভোটে দলের পক্ষ থেকে ইস্তাহারে আমরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। অনেকেই এ রকম প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। আমরা তা করি না। নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে এ দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবাকারে অনুমোদন করা হয়। এজন্য পরিবার পিছু একজনকে রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্য দেবে। সাধারণ পরিবার হলে মিলবে ৫০০ টাকা। তপসিলি জাতি বা আদিবাসী পরিবার হলে তা হবে এক হাজার টাকা। এই কর্মসূচির নাম ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’।’

নবান্ন সূত্রের খবর, এই সুবিধে কারা পাবেন, তাঁর অর্থনৈতিক মাপকাঠি কী হবে, কী ভাবে প্রাপ্ক নির্বাচন করা হবে, তার রূপরেখা তৈরি করে দেবে টাস্ক ফোর্স।

দ্বিতীয় প্রস্তাব পড়াশোনা চালাতে ছাত্রছাত্রীদের ক্রেডিট কার্ড চালু। ছাত্রছাত্রীদের স্বনির্ভর করতেই এই ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা। যার সাহায্যে উচ্চশিক্ষায় তারা দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবে। পড়াশোনা শেষে চাকরি করে এই টাকা দশ বছর ধরে পরিশোধ করবে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে। দ্বাদশ শ্রেণি থেকেই এই কার্ডের সুবিধে পাওয়া যাবে। তৃতীয় প্রস্তাব, ‘দুয়ারে রেশন’। ভোটের আগে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে সাফল্য পেয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রহীতার বাড়িতেই তাঁর প্রাপ্য রেশন পৌঁছে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তিন কর্মসূচি রূপায়ণ করতেই মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে তিনটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। তাতে স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, খাদ্য, শিক্ষা এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকরা থাকবেন। এই টাস্ক ফোর্স নজরদারিও চালাবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমরা চাই কর্মসূচিগুলি গুছিয়ে রপায়ণ করতে। তাই কিছুটা সময় লাগবে।’ উল্লেখ্য, বিক্ষিপ্তভাবে দুয়ারে রেশন কর্মসূচির পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। তার রিপোর্টও দেখবে টাস্ক ফোর্স।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*