অতিরিক্ত চাপের জেরে আত্মঘাতী বিএলও, শেষ চিঠিতে কমিশনকে দায়ী করলেন শিক্ষিকা

Spread the love

কৃষ্ণনগর ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা রিঙ্কু দফাদার (৫৩)—এসআইআর কাজের দায়িত্বে থাকা এক স্কুল শিক্ষিকা—অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সামলাতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন। শনিবার সকালে নিজের বাড়িতেই তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দীর্ঘ সুইসাইড নোট পেয়েছে, যেখানে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে তাঁর পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, তিনি মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন, আর কমিশনের কঠোর ডেটলাইন ও বাড়তি চাপ তাঁর পক্ষে আর সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না। বিশেষ করে বিএলও অ্যাপ বারবার বিকল হওয়ায় কাজে বাধা তৈরি হচ্ছিল, আর কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে প্রশাসনিক শাস্তির যে ভয়, তা তাঁকে আরও দুর্বল করে তুলছিল।

রিঙ্কু দফাদারের আদি বাড়ি চাপড়ার বাঙালঝি। সেখানকার স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে তিনি পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত কৃষ্ণনগর থেকে চাপড়া যাতায়াত করতে হতো—দূরত্বও ছিল বেশ। অফলাইনে কাজ প্রায় শেষ হলেও অনলাইনে আপলোড করতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়েন। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, এই চাপই তাঁকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করে দেয়।

এক ছেলে ও এক মেয়ের মা রিঙ্কু দফাদারের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষা মহল ও প্রশাসনে। বিএলও-দের উপর বাড়তি চাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই বহু অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর সেই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে উঠল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*