গঙ্গাসাগর মেলায় আগত পূণ্যার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেলাকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :  পবিত্র মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে চলছে গঙ্গাসাগর মেলা। সামনেই রয়েছে পূণ্যস্নান। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার সকল পূণ্যার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে তুলে গঙ্গাসাগরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান। কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় সরকারকেও। তিনি লিখেছেন—
“ঐতিহ্যশালী ও ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর মেলায় আগত দেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আগের সরকার এখানে তীর্থযাত্রীদের উপর যে ‘তীর্থ কর’ চাপিয়ে রেখেছিল, আমরা এসেই তা তুলে দিই। মেলায় যেতে এখন আর কোনও কর দিতে হয় না।
তার উপর পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কপিল মুনির আশ্রমসহ মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস-ভেসেল-লঞ্চ-জেটি নদীপথ ড্রেজিং, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা, আলোকসজ্জা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ডাক্তার-নার্স- অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গা, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা, জরুরি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার পরিষেবা, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা — সবই করা হয়েছে।
এবার গঙ্গাসাগর যাতায়াতের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীর উপর রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের টাকায় ‘গঙ্গাসাগর সেতু’ তৈরি করছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা, চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজটি বানাতে যে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, তা আমরাই দিচ্ছি। গত ৫ জানুয়ারি এই সেতুর শিলান্যাস করে এসেছি। এটি তৈরি হয়ে গেলে তীর্থযাত্রীরা সরাসরি সড়কপথে খুব কম সময়ে গঙ্গাসাগর পৌঁছাতে পারবে। সাগরদ্বীপের স্থানীয় মানুষের জন্যও এই সেতু হবে আশীর্বাদস্বরূপ। এলাকার পর্যটন শিল্পও বিপুলভাবে উপকৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে এই সেতুটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে।
প্রার্থনা করি, সকল তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুভ হোক এবং সকলের মনোবাসনা পূর্ণ হোক।
আশা রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলা ও অমনোযোগের একদিন অবসান ঘটবে।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*