বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড আনন্দপুরের গোডাউনে, মৃতের সংখ্যা ৮, রাতে মিলল দেহাংশ, ২০ জন নিখোঁজ, দাবি পরিবারের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ২৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে বিধ্বংসী আগুন আনন্দপুরের গোডাউনে। ১৯ ঘণ্টা পরও সেই আগুনের রেশ কাটেনি। গোডাউনের ভিতর ঝলসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ভস্মীভূত ধ্বংসস্তূপে আটকে একাধিক। সোমবার ভোররাতে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদে একটি ডেকরেটরের গোডাউনে আগুন লাগে। পাশের খাদ্যদ্রব্যের গোডাউনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় গোডাউনে ও কারখানায় রাতের ডিউটিতে ছিলেন একাধিক কর্মী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। কিন্তু ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় প্রাথমিকভাবে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রশাসনের তরফে কথা বলেন নিহত ও আটকে থাকা কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে। ১২ ঘণ্টার পরে আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু প্রায় ১৯ ঘণ্টা পরও পকেট ফায়ার রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। প্রশাসনিক সূ্ত্রের খবর, মোট মৃতের সংখ্যা ৮। নিখোঁজ এখনও কমবেশি ৮-১০ জন। তবে ২০ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেছে তাঁদের পরিবার। পুলিশ অবশ্য এ নিয়ে খোলসা করে কিছু বলতে নারাজ। তবে সবারই আশঙ্কা মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। বেশি রাতের খবর ধ্বংসস্তুপ থেকে কয়েকটি দেহাংশ মিলেছে। সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বেশি রাতের খবর, আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি। বাতাসে পোড়া গন্ধ। স্বজন হারানোর আর্তনাদ। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ সাতটি দগ্ধ দেহাংশ মিলেছে খবর মিলেছে সেখান থেকে। আগেই উদ্ধার হয়েছে পুড়ে যাওয়া তিনটি দেহ। ওই গুদামটি একটি নামী মোমো কোম্পানির। গুদামে ভর্তি ছিল নরম পানীয় এবং শুকনো খাবারের প্যাকেটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আগুন লাগে সেখানে। তার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে দমকলবাহিনী এবং পুলিশকে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন কাজে লাগানো হয়েছে। তার পরেও সোমবার রাত পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রাণহানির সংখ্যা ঠিক কত, কত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।নিখোঁজ ডায়েরি হওয়া ২০ জন কোথায় তা এখনও অজানা। পুলিশ কোনও আশার কথা শোনাতে পারেনি। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, তাঁরা পুরো বিষয়টা তদন্ত করে দেখছেন। পরে এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*