রোজদিন ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের দপ্তরের এই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডে, কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার, এডিজি আইন-শৃঙ্খলা বিনীত গোয়েল, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর রাজ্যের আইজি সঞ্জয় যাদব ও স্টেট সিএপিএফ সমন্বয়কারী গৌরব শর্মা। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী এবং যুগ্ম অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (আইন-শৃঙ্খলা) অর্ণব চট্টোপাধ্যায়ও। কমিশন সূত্রে খবর, মার্চ মাসে দু’দফায় রাজ্যে আসছে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পয়লা মার্চের মধ্যে ২৪০ কোম্পানি এবং ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী, ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ ও সশস্ত্র সীমা বল—এই বাহিনীগুলিই মোতায়েন হবে। এরিয়া ডোমিনেশন, ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি, ইভিএম ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তায় এই বাহিনী কাজ করবে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে রাজ্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি বুথকে স্পর্শকাতর, অতি স্পর্শকাতর বা সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তেজনাপ্রবণ বুথের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত ৬ মাসে বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি ঘিরে অশান্তির ঘটনা বিশেষ ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এক দফাতে করার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর বক্তব্য, পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনিক সমন্বয় থাকলে এক দফায় শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন সম্ভব। কিন্তু অর্ধেকেরও বেশি বুথ যদি উত্তেজনাপ্রবণ হয়, তা হলে বাস্তবে কতটা নির্বিঘ্নে ভোট করা যাবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা ফিরিয়ে আনা। এখন দেখার, কঠোর প্রশাসনিক তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনে সেই লক্ষ্য কতটা সফল হয়।

Be the first to comment