রোজদিন ডেস্ক : মনরেগা প্রকল্প থেকে জাতির জনকের নাম বাদ দিয়ে রামের নাম ঢুকিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথমদিন থেকেই এর প্রতিবাদে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই অবস্থান থেকে দল যে একচুল সরছে না সেটা বৃহস্পতিবার সারারাত জেগে বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরা। তাঁদের দৌলতে এক ব্যতিক্রমী আন্দোলনের সাক্ষী হল রাজধানী নয়াদিল্লি। নয়াদিল্লির প্রচণ্ড ঠান্ডা ও দূষণের পরোয়া না করে রাতভর ধরনা ও অবস্থান চালিয়ে গেলেন সাংসদেরা। কারণ, শ্রমিক বিরোধী অগণতান্ত্রিক ভি বি রামজি বিলকে বৃহস্পতিবার গায়ের জোরে সংসদে পাশ করিয়েছে মোদি সরকার৷ এর জেরেই আন্দোলন।শুরু করে বিরোধী শিবির। যার নেতৃত্বে ছিল তৃণমূল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সারারাত দিল্লির ৯-১০ ডিগ্রির ঠান্ডায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা সংসদ চত্বরে জাগলেন অগণতান্ত্রিক এই বিলের প্রতিবাদে। পুরোনো সংসদ ভবনের প্রবেশপথে ধরনায় বসে রইলেন তাঁরা। রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে সাগরিকা ঘোষ, দোলা সেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশ চিক বরাইক, সাকেত গোখলে, মমতাবালা ঠাকুর, নাদিমুল হক, মৌসম নূর সারারাত ছিলেন ধরনায়৷ কিছুক্ষণ ছিলেন অন্য দলের সাংসদরাও। পরে তাঁরা চলে গেলেও তৃণমূল সাংসদেরা বসেই ছিলেন। ঠান্ডার মধ্যেই তাঁরা গান ধরেন, “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা…৷ বৃহস্পতিবার সারারাত কলকাতা থেকে সাংসদদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন দলনেত্রী। ঠান্ডা ও দূষণের কারণে সাংসদদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি৷ মোদি সরকারের গণতন্ত্র ধ্বংসকারী এই বিলের নতুন নামকরণও করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেটি হল, মার্ডার মনরেগা অ্যান্ড মার্ডার মহাত্মা গান্ধি বিল৷ বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয়ে তৃণমূল সাংসদদের ধরনা শুক্রবার দুপুরে শেষ হয়। ধরনাস্থলে বসে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেন, এর আগে ক্ষমা চেয়ে কৃষি বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল মোদি সরকার৷ এই বিলের ক্ষেত্রেও তাই করতে হবে৷ ক্ষমা চাইতে হবে এবং প্রত্যাহার করতে হবে এই বিল৷

Be the first to comment