কাজের টোপে বাংলাদেশি মহিলাকে ভারতে এনে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হোটেল মালিক চাঞ্চল্য

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : ধুবুলিয়ার বাহাদুরপুরে মানবপাচার ও জোরপূর্বক দেহব্যবসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল সীমান্ত এলাকায়। গত ১৯ ডিসেম্বর ধুবুলিয়ার বাহাদুরপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর মধুপুর BOP (১৬১ ব্যাটালিয়ন) কর্তব্যরত জওয়ানরা এক ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি মহিলাকে আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টি ভীমপুর থানাকে জানানো হলে বিএসএফ-এর তরফে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভীমপুর থানায় Bhimpur PS Case No. 345/25, ধারা 143(2)/144(2)/61(2) BNS অনুযায়ী মামলা রুজু হয়।

পুলিশি তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। মাননীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া গোপন জবানবন্দিতে ওই বাংলাদেশি মহিলা জানান, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অবৈধভাবে ভারতে আনা হয়। এরপর ধুবুলিয়ার বাহাদুরপুর এলাকায় বচ্চন ঘোষের মালিকানাধীন ‘কালি মা হোটেলে’ তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে জোর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হতো। পাশাপাশি তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জবানবন্দিতে আরও জানানো হয়, সুযোগ বুঝে ওই মহিলা হোটেল থেকে পালিয়ে আসেন এবং খোঁজখবর নিয়ে নিকটবর্তী সীমান্ত পথ ধরে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতেই বিএসএফ জওয়ানরা তাকে আটক করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘটনার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ, ২৫ ডিসেম্বর তদন্তকারী অফিসার এসআই তুষার কান্তি ঘোষের নেতৃত্বে ধুবুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে ধুবুলিয়া থানা এলাকা থেকেই অভিযুক্ত হোটেল মালিক বচ্চন ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত বচ্চন ঘোষকে আগামীকাল, ২৬ ডিসেম্বর মহামান্য আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে এবং তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*