জীবনানন্দ দাশ-এর জন্মজয়ন্তী ও কৃষ্ণনগরের জলঙ্গী দিবস: সংস্কৃতি ও প্রকৃতির মিলনমেলা

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর :

আজ একসঙ্গে মিলল সাহিত্য ও পরিবেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একদিকে আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মজয়ন্তী, অন্যদিকে কৃষ্ণনগর জুড়ে পালিত হলো ‘জলঙ্গী দিবস’। এই দুই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আজ গোটা জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আবহ।

সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাহিত্যচর্চা কেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কবির স্মরণে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জীবনানন্দের প্রকৃতিপ্রেম, নদী-নির্ভর জীবনবোধ ও বাংলার মাটির প্রতি ভালোবাসা আজকের দিনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।


এদিন সকাল থেকেই ‘সেভ জলঙ্গী’ সংগঠনের উদ্যোগে জেলা জুড়ে শুরু হয় জলঙ্গী দিবসের কর্মসূচি। নদী সংরক্ষণ, দূষণ রোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি।

বিশেষ আকর্ষণ ছিল জলঙ্গী নদীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অঙ্কন প্রতিযোগিতা। জেলার নানা প্রান্ত থেকে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা এতে অংশ নেয়। তাদের তুলিতে উঠে আসে জলঙ্গীর সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবন, নদীভিত্তিক সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা। আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেই নদী রক্ষার বীজ বপন করাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।

দিনের কর্মসূচির শেষ পর্বে সন্ধ্যায় জলঙ্গী নদীর তীরে কদমতলা ঘাটে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সমাবেশ। সেখানে শতাধিক মানুষ হাতে মোমবাতি নিয়ে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে জলঙ্গীকে রক্ষা করার শপথ নেন।

নদীর জলে প্রতিবিম্বিত মোমের আলো যেন প্রতীক হয়ে ওঠে সচেতনতার, দায়িত্ববোধের এবং ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকারের। এই মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে জলঙ্গী দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এদিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—জীবনানন্দ দাশের জন্মজয়ন্তী ও জলঙ্গী দিবসের মধ্যে এক স্বাভাবিক সেতুবন্ধন। কবির লেখায় যেমন নদী, মাঠ, বন ও প্রকৃতি বারবার ফিরে এসেছে, তেমনই আজকের কর্মসূচিতে সেই প্রকৃতিচেতনাই হয়ে উঠেছিল মূল সুর।

আয়োজকদের মতে, জীবনানন্দের কবিতার মতোই জলঙ্গীও এই অঞ্চলের মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই সাহিত্যচর্চা ও পরিবেশ আন্দোলনের এই মিলন ভবিষ্যতেও বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মজয়ন্তী ও জলঙ্গী দিবস এই দুই উপলক্ষ একসঙ্গে কৃষ্ণনগরে আজ সৃষ্টি করল এক অনন্য পরিবেশ। যেখানে কবিতার আবেগ, নদীর টান, সচেতনতার বার্তা আর মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ মিলেমিশে হয়ে উঠল এক বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনের রূপ।

এই দিন যেন মনে করিয়ে দিল—সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*