রোজদিন ডেস্ক : পানিহাটির তরুণ পুরপ্রতিনিধি অনুপম দত্তর নৃশংস হত্যায় অভিযুক্ত তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিল ব্যারাকপুর আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হল অমিত পন্ডিত, বাপি পন্ডিত ও জিয়াউল মন্ডল।
আজ ব্যারাকপুর আদালতের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা বিচারক অয়ন ব্যানার্জি এই রায় ঘোষণা করেন। সোমবারই এই তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত।
নিহত টিএমসি পুরপ্রতিনিধি অনুপম দত্ত-র পরিবার অভিযুক্তদের মৃত্যুদন্ডের দাবি জানিয়েছিলেন।বিচারক তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ায় তাঁরা অবশ্য কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। ছোট দুই সন্তান নিয়ে অনুপম দত্তর স্ত্রী মীনাক্ষী দত্ত দিন কাটান। আজ তিনি বলেন, তাঁরা তিনজনেরই মৃত্যুদন্ড চেয়েছিলেন, এখন আদালত যা রায় দিয়েছে, এতে তাঁদের কিছু বলার নেই। দীর্ঘ আইনি লড়াই-এ একটা বিচার তো মিলেছে। তবে এই মামলা উচ্চ আদালতে গেলেও তাঁরা নিশ্চয়ই সেখানেও লড়বেন।
স্পর্শকাতর এই মামলার রায় শুনতে আজ পানিহাটি পুরসভার প্রধান সোমনাথ দে, বহু টিএমসি সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুপম দত্ত-র ভাই, স্ত্রী সহ পরিবারের অনেকেও ছিলেন। মীনাক্ষী দত্ত অবশ্য আজও প্রশ্ন তোলেন, এই নৃশংস হত্যাকান্ডর নেপথ্যে কারা ছিলেন? যেভাবে অভিযুক্তরা মামলা লড়েছে, তাদের খরচ কে দিল?? তাদের মধ্যে কলের মিস্ত্রিও আছে। এই সব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও মেলেনি। যেভাবে প্রকাশ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়, তার নেপথ্যে বড় মাথারা থাকার কথা বারবারই শোনা গেছে। তাঁদের এই অসময়ে, আইনি লড়াই চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, সুব্রত বক্সি সহ দলের নেতাদের পাশে থাকার কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে বলেন মীনাক্ষী দত্ত। যদিও আসল কারা এর নেপথ্যে ছিল সেই রহস্য না মেটায় কিছুটা আক্ষেপের আভাস মেলে।
২০২২ এর ১৩ মার্চ বাড়ির কাছেই খুন করা হয় তরুণ পুর প্রতিনিধি অনুপম দত্তকে। এলাকায় দলমত নির্বিশেষে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী সত্যব্রত দাসের সহযোগিতার কথাও বলেন মীনাক্ষী দত্ত। যেভাবে তিনি এই আইনি লড়াই করেছেন এর জন্য তাঁকে অকুন্ঠ প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান।

Be the first to comment