রোজদিন ডেস্ক : যুবভারতীতে যা ঘটেছে সেটা একেবারেই অনভিপ্রেত। এটার জন্য আমাদের বাংলার সম্মান কিছুটা হলেও নষ্ট হয়েছে। কিন্তু ঘটনার এক ঘন্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এ দেশে এমন উদাহরণ খুঁজলেও পাবেন না। গত ৪০-৫০ বছরে অনেক রাজ্যেই এর থেকে বড় বড় ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কোথাও কোনও মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এমন শোনা যায়নি। বুধবার দমদম বিমানবন্দরে নেমে এভাবেই যুবভারতী কাণ্ড নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংলা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তিনি এসআইআর নিয়ে আক্রমণ করেন বিজেপিকে। বলেন, কোথায় গেল এক কোটি বাংলাদেশি, কোথায় গেল এক কোটি রোহিঙ্গা? এদের বাংলার প্রতি নূনতম সম্মান বোধ, বাংলার প্রতি নূনতম বিবেক বোধ যদি তাঁদের থাকে তাহলে বাংলাকে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা, বা বাংলাদেশিদের সঙ্গে তুলনা করত না। ১০ কোটি বাংলাবাসীকে যারা অপমান করেছে তাদের এখনই ক্ষমা চাওয়া উচিত। এক কোটি বাংলাদেশি নাকি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে গেছে, এক কোটি রোহিঙ্গা নাকি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে গেছে, কোথায় তারা? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তারা বাংলায় ঢুকে পড়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে পহেলগাও, কাশ্মীরে বর্ডার পেরিয়ে জঙ্গিরা ঢুকছে কী ভাবে? সেখানে তে আর তৃণমূল কংগ্রেস নেই। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী তো আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। সেই রাজ্যের পুলিশ তো আর তৃণমূল চালায় না। যার ব্যর্থতায় জঙ্গিরা ঢুকে এই হত্যালীলা চালাল সেই আইবি চিফকেই আবার কীভাবে এক বছরের এক্সটেনশন দেওয়া হল? সেই আইবি চিফ থাকাকালীনই দিল্লিতে বোমা বিস্ফোরণে অনেক প্রাণ গেল, তারপরও তিনি কী করে পদে রইলেন? এর উত্তর দিতে হবে। যারা বাংলাকে খাটো করতে চেয়েছে তারাই ছোট হয়েছে। আকাশের দিকে মুখ করে থুতু ফেললে নিজের গায়েই পড়ে, বিজেপি নেতাদের সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
আপনারা বাংলার মানুষের পানীয় জল থেকে আবাস, রাস্তা, একশো দিনের টাকা মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। তাতেও না পেরে এবার তাঁদের মৌলিক অধিকারটাও কেড়ে নেওয়ার খেলায় নেমেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ রুখে দাড়িয়েছে। আমি স্যালুট জানাই বাংলার প্রত্যেক মানুষকে। আমি অভিনন্দন জানাই তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ হাজার বিএলএ ২ কর্মীকে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানুষের এই অধিকার সুনিশ্চিত করতে পেরেছে।শহর এলাকায় কোথাও যদি কোনও নাম বাদ গিয়ে থাকে, তসহলে আমরা আবেদন জানাবো, হিয়ারিং হবে। যদি একজনও বৈধ ভোটার হয় তার নাম বাদ যাবে না। আমরা এই চক্রান্ত রুখবই। এসব করে আটকানো যাবে না। এসআইআর নিয়ে বলেন, ডানকুনির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের একজন কাউন্সিলরকে মৃত করে দেখানো হয়েছে ভোটার তালিকায়। এসআইআরের নামে কী হয়েছে সবাই তা দেখতে পাচ্ছেন। বলা হচ্ছে ভোটাররা নাকি অবৈধ! তাহলে আমার প্রশ্ন, ভোটার যদি অবৈধ হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও অবৈধ হবে না কেন?

Be the first to comment