অভিযুক্ত একজন কর্তব্যরত বিডিও বলেই কি এত সহজে আগাম জামিন? হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠছে অনেক গুরুতর প্রশ্ন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : এক ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ। সেই মামলায় একাধিক অভিযুক্ত হেফাজতে। কিন্তু মজার কথা মূল মূল অভিযুক্ত আগাম জামিন নিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরছেন। সম্প্রতি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মূল অভিযুক্তের আগাম জামিন খারিজ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এটা বিষয় নয়। এটা সম্পূর্ণ আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত একটি বিষয়। তা নিয়ে আদালত কী রায় দিচ্ছে, না দিচ্ছে এ নিয়েও প্রশ্নটা নয়। প্রশ্ন উঠছে, এক অভিযুক্তের আগাম জামিন খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের যে পর্যবেক্ষণ তা নিয়েই। কারণ, ওই মামলার মূল অভিযুক্ত একজন বিডিও বা সরকারি আমলা। এর আগে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিল বারাসত জেলা আদালত। সেই রায় নিয়েই এবার পর্যবেক্ষণে একাধিক অসঙ্গতি তুলে ধরলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি যা বলেছেন তা নিয়ে যথেষ্ট ভাবনার অবকাশ আছে। জামিন খারিজ করে বিচারপতির ঘোষের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্ত একজন ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার অফিসার বলেই তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল? এই খুনের মামলায় অভিযুক্তরা প্রায় সবাই হেফাজতে রয়েছে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত জামিনে? তা কিভাবে সম্ভব হল? মূল অভিযুক্ত জামিনে থাকলে ন্যায়বিচারে প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন বিচারপতি। বিচারপতি ঘোষ তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, খুনের মতো ঘটনায় জামিন বা আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতকে যে বিষয়গুলির উপর নজর রাখতে হয়, এই ক্ষেত্রে তার কোনওটাই বারাসত আদালত দেখেনি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ অস্বীকার করে জামিন দিয়েছিল বারাসত আদালত। যা কোনও ভাবেই মানা যায় না। সোজা কথা, জামিনের ক্ষেত্রে আইনি বিষয়গুলিকে বাদ রেখেই ওই রায় দেওয়া হয়েছিল বলেই মনে করেছে হাইকোর্ট। তাই কর্মরত ওই বিডিওর জামিনও নাকচ হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, নিম্ন আদালতে যদি সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে ফাঁক থেকে যায়, তাহলে আম জনতা যাবে কোথায়? আইনি লড়াই চালানো দিন কে দিন দূর্মুল্য হয়ে উঠছে। সেখানে নিম্ন আদালতে লড়াই চালাতেই মানুষের ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, সেখানে, কতজন তারপর আর উচ্চ আদালতে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*