রোজদিন ডেস্ক : দোল ও হোলির আবহে উৎসবের মঞ্চেই এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত দোল-হোলি উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রগুলি থেকে বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। একই ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঘোষণা করেছে, এক ভোটে হলেও ভবানীপুরে জিতব।
তাঁর অভিযোগ, বাংলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন দেড় কোটির মতো মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা অন্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বহু ক্ষেত্রে ‘ডাউটফুল’ বা সন্দেহজনক তকমা দিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।এমনও উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে পরিবারের এক সদস্যের নাম রয়েছে, অন্য সদস্যের নেই। বিয়ের পর ঠিকানা পরিবর্তনের মতো কারণ দেখিয়ে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর প্রশ্ন, এটা কি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মানদণ্ড হতে পারে?
তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। আধার কার্ড থেকেও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সংবিধান সঙ্কটে, গণতান্ত্রিক অধিকার বিপন্ন। এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করেন তিনি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিএলও, ইআরও, ডিইওরা দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু বাইরে থেকে এসে কিছু পর্যবেক্ষক নাম কেটে দিচ্ছেন। কারও নাম না করে তিনি কটাক্ষ করেন, পাঁচতারা হোটেলে বসে রথযাত্রা করলে হবে না, মানুষের অধিকার কেড়ে নিলে তার জবাব মানুষ দেবে।
ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রসঙ্গ বলেন, ওখানে মোট ভোটার প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার। আগে ৪৪ হাজার নাম বাদ গিয়েছিল, এ বারও হাজার হাজার নাম অনুপস্থিত বলে তাঁর দাবি। ভোটার কোথায় গেল? কেন নাম নেই? প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, এক ভোটে হলেও ভবানীপুরে জিতব। মানুষের বিশ্বাস আমার সঙ্গে আছে। তিনি জানান, দোল উৎসবের পর থেকেই ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্নায় বসবেন। সংগ্রাম করেই জীবন শুরু করেছি, সংগ্রাম করেই জীবন শেষ করব, বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তৃতার শেষাংশে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেন তিনি। বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সওয়াল করে বলেন, আমরা মানুষকে ভাঙি না, মানুষকে এক করি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা উদ্ধৃত করে মানবিক শক্তির জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে থাকি, একসঙ্গে কাজ করি। গান্ধীজি, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নেতাজি, ভগত সিংহ, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের নাম স্মরণ করে দেশপ্রেম ও সম্প্রীতির বার্তা দেন তিনি।

Be the first to comment