রমিত সরকার, নদীয়া : কৃষ্ণনগর কলিজিয়েট স্কুলের ময়দান জুড়ে আজ বইয়ের গন্ধ আর মানুষের ভিড়ে অন্যরকম এক আবহ তৈরি হল। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল ৪১তম নদীয়া জেলা বইমেলা। সকাল থেকেই ময়দান ঘিরে ছিল পাঠক, প্রকাশক আর সংস্কৃতিপ্রেমীদের উন্মাদনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় পতাকা ও বইমেলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারপর শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। এই পর্বের পরেই মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের হাত ধরে বইমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, জেলা সভাপতি এবং একাধিক বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি জগতের প্রতিনিধিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বেড়ে যায়।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বক্তারা বলেন, নদীয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বইমেলার আলাদা জায়গা আছে। শুধু বই কেনাবেচা নয়, এই মেলা আসলে ভাবনা, মত আর মননের আদান–প্রদানের এক বড় মঞ্চ। নতুন প্রজন্মকে বইয়ের দিকে টেনে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
এ বছর মেলায় রয়েছে জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন নামী প্রকাশকের স্টল। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি থাকছে ইতিহাস, বিজ্ঞান, শিশু সাহিত্য এবং সমকালীন চিন্তাভাবনার নানা বই। আগামী কয়েক দিনে সাহিত্য সভা, আলোচনা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলাকে ঘিরে তৈরি হবে আরও প্রাণবন্ত পরিবেশ।
কৃষ্ণনগরের বুকে এই বইমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটা শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। বইয়ের পাতা উল্টে উল্টে পাঠকেরা এখান থেকে যেমন জ্ঞান নেবেন, তেমনই এই মেলাই আবার মনে করিয়ে দেবে—সভ্যতার মূল ভিতটা আজও গড়ে আছে বইয়ের ওপরই।

Be the first to comment