রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে ভবিষ্যতের কোনও রূপরেখা নেই বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বাজেটে বড় বড় ঘোষণা করে প্রচারের আলো কুড়ানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু রাজ্যের মৌলিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
শুভঙ্কর সরকার জানান, প্রথম নজরে চার লক্ষ কোটি টাকার বেশি এই বাজেট আপাত দৃষ্টিতে উচ্চাভিলাষী, কিন্তু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে আর্থিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পোন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় বিচার ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সামনে আসে।
তিনি বেশ কিছু ত্রুটির কথা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের বকেয়া ঋণ সাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকা, তা পরিশোধের দিশা কোথায়! তাঁর আশঙ্কা এই সরকারও ঋণ নির্ভর হবে!
সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ঘোষণা কে স্বাগত জানালেও তিনি এর আর্থিক স্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার খাতে বরাদ্দ টাকায় ১ কোটি মহিলা সুবিধা পেতে পারেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মনে করেন। কারা এবং কি ভিত্তিতে সাবেক লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তারা বাদ পড়লেন, তিনি জানতে চান। বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনও সুস্পষ্ট কথা নেই। রাজ্যের যুব সমাজ স্লোগান না, কাজ চান। শিল্প, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ক্ষেত্র ও বাজেটে উপেক্ষিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বড় কাটছাঁট। কেন্দ্রর কাছে রাজ্যের বকেয়া পাওনা নিয়ে কোন কথা বাজেটে নেই।
শুভঙ্কর সরকার বলেন, দুঃখজনকভাবে এই বাজেট নীতির থেকে প্রচারকে, জবাবদিহিতার চেয়ে ঘোষণাকেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের থেকে স্বল্প মেয়াদি রাজনৈতিক প্রচারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সেচ, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ক্ষেত্র নিয়েও হতাশ তাঁরা।
শুভঙ্কর সরকার বলেন, তাঁরা বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে ছাত্র, যুব, কৃষক, শ্রমিক, সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রমুখের স্বার্থে এই বিষয়গুলি তুলে ধরবেন বলে জানান।
সাংবাদিক বৈঠকে মিতা চক্রবর্তী সহ অন্য নেতারা প্রদেশ সভাপতির সঙ্গে ছিলেন।

Be the first to comment