রোজদিন ডেস্ক :
দীর্ঘ প্রায় দু বছর ভারতে গোপন আস্তানায় আছেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর দেশে নতুন সরকার এসেছে। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা ভাবছেন! এক বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজেই একথা জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা জানান, শুধু তিনি না, আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তড়িঘড়ি ভারতে চলে আসেন। সেই থেকে এখানেই আছেন তিনি। সূত্রের খবর, এতদিন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ই-মেলে সাক্ষাৎকার দিলেও এই প্রথম তিনি কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা জানান, দেশে তাঁর দলের নেতা কর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যু আসে, তিনি চান তা নিজের দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে তাঁর মা বাবা কবরে শায়িত আছেন, যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।
তিনি ভারতে থাকাকালীনই বাংলাদেশের এক ট্রাইবুনাল তাঁর মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করেছে।
এখানে তিনি থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়। তাঁকে বারবার ফেরত পাঠানোর কথা বলা হলেও ভারত নীরব থেকেছে।
শেখ হাসিনা জানান, তারা (বাংলাদেশ) তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার চিঠি দিচ্ছে, এবার তিনি নিজেই যাবেন।
বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয় পক্ষে সম্পর্কের কিছু উন্নতি হলেও আগের মত স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলায় তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এখন অবধি এই বিষয়ে দুই দেশের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
তবে ঠিক কবে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন ও কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা নিয়ে কিছু বলেন নি শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, তিনি ন্যায় বিচারে বিশ্বাস করেন, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। দেশে ফিরে গ্রেফতার হলেও তাঁর কোন উদ্বেগ নেই জানিয়ে বলেন, এর আগেও তিনি কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন।
যখন কোন সরকার দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকে ভুল হতে ই পারে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এর ভাল মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। তিনি তাঁদের ওপর ই এই বিচারের ভার ছেড়ে দিচ্ছেন।
তাঁর দল আওয়ামী লিগ কে কেন দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ছাত্র যুব আন্দোলন দমাতে শেখ হাসিনার সরকারের দমন পীড়নে ১৪০০ জন প্রাণ হারান বলে অভিযোগ। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ফাঁসির রায় নিয়ে ভারতে আছেন বলে খবর।
যদি ও তাঁদের বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগই অস্বীকার করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

Be the first to comment