রোজদিন ডেস্ক: কাকদ্বীপে সিপিএম সমর্থক দম্পতি কে হত্যা করা হয়েছিল বলে চার্জশিট দিলো সিট। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের দিন দেবপ্রসাদ দাস ও উষা রানী দাসকে হত্যা করা হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের দাবি ছিল, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে আগুন লেগে তাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন। দম্পতির তরুণ পুত্র বাড়ি ফিরে এই মর্মান্তিক ঘটনা দেখেন। দম্পতির ময়না তদন্তের পর পুত্র কে তাঁদের দেহ দেওয়া নিয়েও অনেক টালবাহানা করে তৎকালীন সরকারের পুলিশ। আদালতের নির্দেশে কয়েকদিন পর তিনি বাবা মার দেহর শেষকৃত্য করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরস্থান, কয়েকজন সিপিএম সমর্থক কেই গ্রেফতার করে। সরকার শর্ট সার্কিটের দাবি করলেও সেইদিন ঝড় বৃষ্টি র জন্য ওখানে বিদ্যুৎ ছিল না বলে গ্রামবাসীরা জানালেও পুলিশ তা মানে নি। পরে আদালতের নির্দেশে এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত করে সিট। বুধবার সিটের পেশ করা চার্জশিটে জানা যায়, দম্পতি কে প্রথমে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতি রা। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁদের বাড়ি আগুন লাগিয়ে দেয়।
ঘটনা ক্রমে নৃশংস ভাবে নিহত দম্পতির পুত্র দীপঙ্কর দাস এখন আইনজীবী। সিপিএম নেতা, দল আগাগোড়া তাঁর পাশে থেকেছে। আদালতের নির্দেশ সত্বেও এই হত্যাকান্ডের তদন্তে গতি আসেনি। নতুন সরকার আসার পর পুত্র মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই মৃত্যুর তদন্ত চান। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তদন্তে গতি আসে। সিট এর চার্জশিটে হত্যায় অভিযুক্ত রা সকলেই সাবেক তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর সিপি এম সমর্থক দম্পতির প্রকৃত হত্যাকারীদের নাম জানা যাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে পুত্র দীপঙ্কর দাস। যদিও বিচার মিলবে কিনা তা নিয়ে এখন ও নিশ্চিত নয় বিভিন্ন মহল।
যে ভয়ঙ্কর দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে সে গেছে, এখন ও তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। তরুণ আইনজীবী দীপঙ্করের আশা, বাবা মার নৃশংস হত্যার বিচার মিলবে।

Be the first to comment